দ্য ওয়াল ব্যুরো: মালদহের ইংরেজবাজার থানার নিমাইসরাই এলাকায় চকোলেটের প্রলোভন দেখিয়ে বাড়িতে ডেকে নিয়ে গিয়ে মাত্র চার বছর বয়সী শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠল প্রতিবেশী এক মাঝবয়সী ব্যক্তির বিরুদ্ধে। গুরুতর অসুস্থ ও আহত অবস্থায় ওই শিশুকে মালদহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। নির্যাতিতা শিশুকন্যার পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
ধৃতের নাম সফিকুল আলম, বয়স পঞ্চান্ন বছর। সে নিমাইসরাই এলাকারই বাসিন্দা, পেশায় চাল ব্যবসায়ী।
নির্যাতিত শিশুকন্যার পরিবার জানিয়েছে, গত ১৬ জুন বাড়ির বাইরে শিশুকন্যাটি খেলা করছিল। সেই সময় প্রতিবেশী সফিকুল আলম তাকে চকোলেটের প্রলোভন দেখিয়ে নিজের বাড়িতে ডেকে নিয়ে যায়। বেশ কিছুক্ষণ মেয়েকে দেখতে না পেয়ে তার পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করে দেন। তখন অভিযুক্ত ব্যক্তির বাড়ি থেকে কাঁপতে কাঁপতে বেরিয়ে আসে চার বছরের শিশুটি। মুহূর্তের মধ্যেই সে শারীরিক ভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ে। তার গোপনাঙ্গ দিয়ে রক্তপাত হতে দেখেন পরিবারের লোকজন। তখন তাঁরা ভয় পেয়ে যান। তাঁরা জানতে চাইলে সব কথাই বলে দেয় শিশুটি। পরিবারের লোকেরা তখনই তাকে মালদহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। এখনও সেখানেই তার চিকিৎসা চলছে। তাকে হাসপাতালে ভর্তি করার পরে পরিবারের তরফে ইংরেজবাজার থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়।
অভিযোগ পাওয়ার পরে পুলিশ সেই দিনই অভিযুক্ত সফিকুল আলমকে গ্রেফতার করে। পরের দিন আদালতে তোলা হলে তাকে চোদ্দো দিন জেল হেফাজতের নির্দেশ দেওয়া হয়। অভিযুক্তকে জেরা করছে পুলিশ। সে অভিযোগ স্বীকার করেছে বল দাবি পুলিশের।
শুক্রবার ইংরেজবাজার মহিলা থানার পুলিশ ওই শিশুর মা ও বাবাকে ডেকে এক দফা জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। প্রতিবেশীদের সঙ্গেও কথা বলেছে মহিলা থানার পুলিশ। পুলিশকে প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন ঘটনার সময় অভিযুক্তের বাড়ি ফাঁকাই ছিল। অভিযুক্তের পরিবারের লোকজন অবশ্য এব্যাপারে কোনও কথা বলছে না।
মহিলা থানার আইসি চুংফু ভুটিয়া বলেন, “আমরা অভিযোগ পেয়ে তার ভিত্তিতে এক জনকে গ্রেফতার করেছি। তার বিরুদ্ধে ওঠা স্বীকার করেছে অভিযুক্ত। ইতিমধ্যেই তার বিরুদ্ধে পকসো আইনে মামলা রুজু করা হয়েছে।”
ওই শিশুকন্যার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল তবে তার মানসিক অবস্থা এখনও ঠিক নেই। তার মা-বাবাও মানসিক ভাবে বিধ্বস্ত অবস্থায় রয়েছেন। শিশুদের পরিবার চাইছে পৈশাচিক ঘটনার জন্য দোষী ব্যক্তিকে ফাঁসি দেওয়া হোক।