দ্য ওয়াল ব্যুরো: কোয়ারেন্টাইন সেন্টার নিয়ে লোকসভার কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরী অব্যবস্থার অভিযোগ তোলার আগেই মুর্শিদাবাদের হরিহরপাড়ার আব্দুলপুর গ্রামের কোয়ারেন্টাইন সেন্টার থেকে পালালেন ২৬ জন পরিযায়ী শ্রমিক। ফলে তাঁদের মাধ্যমে করোনাভাইরাস ছড়ানোর আশঙ্কা করছেন এলাকার লোকজন।
মূলত কেরল ও মহারাষ্ট্র থেকে আসা ৩২ জন পরিযায়ী শ্রমিক ছিলেন এই কোয়ারেন্টাইন সেন্টারে। তাঁদের মধ্যে ২৬ জন সেন্টার ছেড়ে পালিয়েছেন। শনিবার এই খবর পাওয়ার পরেই এলাকাবাসীরা প্রকাশ্যে ক্ষোভ উগরে দেন।
জানা গেছে দিন কয়েক আগে কেরল থেকে আসা ২৪ জন ও মহারাষ্ট্র থেকে আসা ৮ জন শ্রমিক আব্দুলপুরের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কোয়ারেন্টাইন সেন্টারে থাকতে শুরু করেন। দিন কয়েক থাকার পরেই কেরল থেকে আসা সব শ্রমিক এবং মহারাষ্ট্রের ৬ জন চুপিসাড়ে সেখান থেকে বেরিয়ে বাড়ি ফিরে যান। শুধু তাই নয়, তাঁরা নিজেদের এলাকায় ফিরে গিয়ে দেদার ঘোরাফেরা করছেন বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। এই মুহূর্তে ওই কোয়ারেন্টাইন সেন্টারে মহারাষ্ট্র থেকে ফেরা ৬ জন শ্রমিক রয়েছেন। তাঁরা অবশ্য বলছেন সমাজের স্বার্থে এবং পরিবারের বিপদের কথা ভেবে নিয়মমাফিক সেখানেই ১৪ দিন কাটিয়ে সুস্থ হয়ে তারপরে বাড়ি ফিরবেন।
তবে এই কেন্দ্রে খাবার না পাওয়ার কোনও অভিযোগ ওঠেনি। প্রশাসন থেকে খাবারের ব্যবস্থা না করায় রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে সেই ব্যবস্থা করা হয়েছে। হরিহরপাড়ার বিডিও পূর্ণেন্দু সান্যাল বলেন, “জেলা প্রশাসন থেকে আমাদের উপরে কোনও নির্দেশ দেওয়া নেই তাই আমরা খাবার দিতে পারি না।” কারা খাবার দিচ্ছে সে ব্যাপারে তিনি কোনও কথা বলতে চাননি। হরিহরপাড়া পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি সারগিদা বেগম বলেন, “এখানকার তৃণমূল ব্লক সভাপতি সামসুজ্জামান বিশ্বাস ও হরিহরপাড়ার বিধায়ক নিয়ামত শেখের নির্দেশে আমরা দলগত ভাবে খাবার দিচ্ছি। যে সব অঞ্চলে কোয়ারেন্টাইন সেন্টার রয়েছে সেখানে এক সপ্তাহ অন্তর খাবার বিতরণ করা হচ্ছে।”
এদিনই কোয়ারেন্টাইন সেন্টারকে ‘মানুষের খোঁয়াড়’ বলে কটাক্ষ করেছেন বহরমপুরের সাংসদ অধীর চৌধুরী। তাঁর অভিযোগ, “কোয়ারেন্টাইন সেন্টারে লোকে না পাচ্ছে খাবার না পাচ্ছে জল। মুখ্যমন্ত্রীর খাতায়-কলমে কোয়ারেন্টাইন সেন্টার চলছে। মানুষ কী পেল না পেল সে সব দেখার দরকার নাই। প্রতিটি কোয়ারেন্টাইন সেন্টারের অবস্থা দুর্বিষহ।”
খাবার না পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে দক্ষিণ দিনাজপুরের হিলির একটি কোয়ারেন্টাইন সেন্টার থেকেও। সেখানে দুবেলা খিচুড়ি জাতীয় খাবার দেওয়া হচ্ছিল। বৃহস্পতিবার জানিয়ে দেওয়া হয় যে খাবার দেওয়া হবে না। তার পরেই সেই সেন্টার ছেড়ে গ্রামে চলে যান ৯ জন পরিযায়ী শ্রমিক। অন্য শ্রমিকরা শুক্রবারও জানান, সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত তাঁরা কোনও খাবার পাননি। প্রশাসন বিষয়টি দেখবে বলে আশ্বাস দিয়েছে।