দ্য ওয়াল ব্যুরো: দেশজোড়া লকডাউনের মধ্যে ওড়িশা থেকে হেঁটে ঝাড়গ্রামে এসে পৌঁছলেন ২২ জন শ্রমিক। জানা গেছে যে ওই শ্রমিকদের কেউ ওড়িশার ঠাকুরমুণ্ডা এলাকায় রিং ফ্যাক্টরিতে এবং কেউ পাতকুয়োর শ্রমিক হিসাবে কাজ করতেন। লকডাউনের জেরে কাজ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এবং খাবার শেষ হয়ে যাওয়ায় তাঁরা বাড়ি ফিরতে বাধ্য হন। কোনও গাড়ি না চলায় বাধ্য হয়েই তাঁরা হাঁটতে শুরু করেন। সোমবার রাতে তাঁরা ঝাড়গ্রামে পৌঁছন। তাঁদের প্রত্যেকে শারীরিক পরীক্ষা করানোর জন্য ঝাড়গ্রাম সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল নিয়ে যাওয়া হয়।
সোমবার রাত আটটার সময় ঝাড়গ্রাম শহরের পেপার মিল মোড়ে পৌঁছন এই শ্রমিকরা। সেখানে ঝাড়গ্রাম থানার নাকা চেকিং থাকায় তাঁদের আটক করে পুলিশ। তখনই পুলিশ জানতে পারে যে খাবার শেষ হয়ে যাওয়ায় তাঁরা প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে ঠাকুরমুণ্ডা থেকে প্রায় দেড়শো কিলোমিটার হেঁটে ঝাড়গ্রামে ফিরেছেন।
ওই শ্রমিকরা খিদে-তেষ্টায় কাতর হয়ে পড়েছিলেন। একথা শুনে পুলিশের পক্ষ থেকে তাঁদের জন্য মুড়ি, চানাচুর ও জলের বন্দোবস্ত করা হয়। তারপরে সমস্ত শ্রমিককে শারীরিক পরীক্ষা করানোর জন্য ঝাড়গ্রাম সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে নিয়ে যায় পুলিশ।
শ্রমিকরা জানান যে তাঁদের অনেকেরই বাড়ি ঝাড়গ্রাম ব্লকের রাধানগর গ্রাম পঞ্চায়েতের কন্যাডুবা, মুরগিডিহি ও দামদাঙ্গা গ্রামে। ঝাড়গ্রামে ফেরার জন্য তাঁদের সাঁতরে নদী পার হতে হয়েছে। ঠাকুরমুণ্ডা থেকে ঝাড়গ্রামের উদ্দেশে মাঝরাতে একটি পিকআপ ভ্যান ভাড়া করে তাঁরা রওনা হয়েছিলেন। ভোর হওয়ার আগেই বাংলা ও ওড়িশার সীমানায় জামশোল গেটের আগেই তাঁদের নামিয়ে ফিরে যায় পিকআপ ভ্যানটি। তারপর তাঁরা সেখান থেকে হাতিবাড়ি মোড় হয়ে গোপীবল্লভপুর ব্লকে ঢুকে পড়েন।
গোপীবল্লভপুর থানার পুলিশের চেকপোস্ট এড়ানোর জন্য গোপীবল্লভপুর বাজারে ঢোকার প্রায় ১০ কিলোমিটার আগে সুবর্ণরেখা নদীর দিকে বেঁকে যান তাঁরা। কখনও গ্রামের মধ্যে হাঁটা, কখনও আবার ধান জমির আলের উপর দিয়ে হেঁটে হেঁটে তাঁরা পৌঁছন সুবর্ণরেখা নদীর পাড়ে। সেখান থেকে নদী সাঁতরে পার হয়ে হাঁটতে শুরু করেন ফেকোর দিকে। ফেকো থেকে চন্দ্রি হয়ে তাঁরা ঝাড়গ্রামে পৌঁছন।
এইরাজ্য থেকেও বেশ কয়েক জন শ্রমিক অন্য রাজ্যে নিজেদের বাড়িতে ফিরেছেন। কয়েক দিন আগেই তিন শ্রমিকের পরিবার কোন্নগর থেকে হাওড়া হয়ে হেঁটে খড়্গপুর পৌঁছেছিলেন। সেখানে পুলিশ তাঁদের মহারাষ্ট্রে পাঠানোর ব্যবস্থা করে।