
শেষ আপডেট: 18 October 2018 08:46
দ্য ওয়াল ব্যুরো: হুগলির বৈদ্যবাটি পুরসভার ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের গোবিন্দনগরে একটি বাড়িতে বছর খানেক ধরে ভাড়া থাকেন দুই ভাই। পাড়ার লোক জানেন বড় ভাইয়ের নাম রাম আর ছোট ভাই লক্ষণ। কিন্তু তাঁরাই যে গেরস্থ পাড়ায় এমন ‘রামায়ণ’ বাঁধাবেন ঘুণাক্ষরেও বুঝতে পারেননি কেউ।
যে বাড়িতে রাম-লক্ষণ ভাড়া থাকেন তার পাশের বাড়ির লোকের সঙ্গে বেশ কয়েকমাস ধরেই ঝগড়া চলছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। মহা অষ্টমীর দুপুরে প্রতিবেশী ভদ্রলোক থানায় ছুটেছিলেন রাম-লক্ষণের নামে অভিযোগ করতে। দিন-রাত দুই ভাই মিলে মদ খেয়ে এমন কাণ্ড করেন যে পাশের বাড়ির লোক টিকতে পারে না। পুজো-পার্বণের দিন, তাই আর থানার বড়বাবু, মেজোবাবুরা আসেননি। একটু সমঝে দেওয়ার জন্য পাঠিয়েছিলেন সিভিক ভলেন্টিয়ারদের। বুধবার সন্ধে বেলা সিভিক ভলেন্টিয়াররা রাম-লক্ষণের সঙ্গে কথা বলতে গেলে তাঁদেরও ঘরের ভিতর থেকে গাল-মন্দ করে পাঠিয়ে দেওয়া হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। দরজা খুলতে বললেও খোলেন না তাঁরা। থানায় গিয়ে রিপোর্ট করেন সিভিক ভলেন্টিয়াররা। রাতে আসে পুলিশ। তাঁদেরকেও প্রথমে ঘরে ঢুকতে দিচ্ছিলেন না রাম-লক্ষণ। খানিকটা জোর করেই ঘরে ঢোকেন তাঁরা।
ঘরের অবস্থা দেখেই সন্দেহ হয় পুলিশের। ঠাকুরের সিংহাসনে রাখা প্রেসার কুকার। খুলতেই দেখা যায় প্রেসার কুকার ঠাসা নোটের বাণ্ডিল। তার ভাঁজে ভাঁজে আবার গাঁজার পুরিয়া। উদ্ধার হয় প্রাচীন মূর্তি এবং ওষুধ তৈরির জন্য ব্যবহৃত বিভিন্ন রাসায়নিক। শেওড়াফুলি ফাঁড়ির আইসি শুভাশিস দাস জানিয়েছেন, “ওঁদের বাড়ি থেকে যে জিনিসগুলি উদ্ধার করা হয়েছে সেগুলো সন্দেহজনক। জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।”
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, বড় ভাই রাম নিজেকে জ্যোতিষী বলে পরিচয় দিত। আর লক্ষণ সারাদিন বাড়িতেই থাকত বলে জানিয়েছেন তাঁরা। কিন্তু এত টাকা কেন? আর সেই টাকা প্রেসার কুকারেই বা রাখা হলো কী জন্য? ওষুধ তৈরির রাসায়নিক থেকে প্রাচীন মূর্তি সবই ঘরের মধ্যে অবিন্যস্ত অবস্থায় ছিল বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে। তবে কি এরা কোনও অপরাধ চক্রের সঙ্গে যুক্ত? যুক্ত থাকলে এদের সঙ্গে আর কারা আছে? সবটাই খতিয়ে দেখছে পুলিশ।