দ্য ওয়াল ব্যুরো: ফের বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে করোনার হানা। এর আগে এখানকার চারজন চিকিৎসকের দেহে সংক্রমণ ধরা পড়েছিল। শনিবার ফের দুই চিকিৎসক ও ব্লাডব্যাঙ্কের এক কর্মীর শরীরে করোনা সংক্রমণ ধরা পড়ল। আর এই রিপোর্ট সামনে আসতেই তাঁদের সংস্পর্শে আসা আরও ১০ চিকিৎসক-নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীকে পাঠানো হয়েছে কোয়ারেন্টাইনে।
জানা গিয়েছে, শনিবার সকালে হাসপাতালে এসে ব্লাডব্যাঙ্কের এক কর্মী জানতে পারেন, তাঁর নমুনা পরীক্ষার রিপোর্ট পজিটিভ। এই খবর শোনার পরেই ব্লাডব্যাঙ্কের বাকি কর্মীরা কাজ বন্ধ করে দেন। তাঁরা পুরো বিষয়টি সুপারের অফিসে জানান। সুপারের সঙ্গে কথা আলোচনা করে প্রায় এক ঘণ্টা পরে তাঁরা ফের কাজ শুরু করেন।
ব্লাডব্যাঙ্কের ওই কর্মী ছাড়াও অস্থি ও স্নায়ু বিভাগের দুই চিকিৎসকের শরীরেও সংক্রমণ ধরা পড়েছে বলে খবর। একের পর এক চিকিৎসক এভাবে আক্রান্ত হওয়ায় চিন্তার ভাঁজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কপালে। কী ভাবে পরিষেবা দেওয়া যাবে সেই নিয়েই চিন্তাভাবনা শুরু হয়েছে।
ইতিমধ্যেই অবশ্য কিছু নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তরফে। ওয়ার্ডে রোগী দেখতে আসার জন্য যে ভিজিটিং আওয়ার ছিল তা তুলে দেওয়া হয়েছে। রোগীর কাছে সর্বক্ষণ একজন করে রাখা হচ্ছে। কিন্তু সে চলে গিয়ে অন্য লোক আসবে, এই ব্যবস্থা বন্ধ করা হয়েছে। হাসপাতাল চত্বরে রোগীর পরিজনদের ভিড় নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে।
এছাড়া রাধারাণী ওয়ার্ডের সামনে রোগীর পরিজনদের থাকার জন্য যে জায়গা ছিল, তা এদিন ফাঁকা করে দেওয়া হয়েছে। হাসপাতালের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, এই সময় হাসপাতাল চত্বরে ভিড় করে থাকলে চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী ছাড়াও রোগী ও তাঁদের আত্মীয়দেরও জীবনের ঝুঁকি রয়েছে। তাই সকলের কথা মাথায় রেখে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এছাড়া সবাইকে সচেতন থাকার জন্য মাইকে করে প্রচারও করা হচ্ছে হাসপাতাল চত্বরে।
ভিড় নিয়ন্ত্রণ করলেও ভর্তি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয় বলেই জানিয়েছেন বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। হাসপাতালের সুপার প্রবীর সেনগুপ্ত বলেছেন, “এটা বর্ধমান জেলার প্রধান হাসপাতাল। এছাড়া অন্য জেলা থেকেও অনেক রোগী আসেন। তাই ভর্তি নিয়ন্ত্রণ করা যাবে না। এখানে কর্মরত চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের নিয়েই পরিষেবা দেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাব।”
এদিকে অবস্থা আরও খারাপ হওয়ায় বর্ধমান জেলার জামালপুর ব্লক স্বাস্থ্যকেন্দ্র বন্ধের মুখে। স্বাস্থ্যকেন্দ্রে থাকা ১১ জন রোগীর রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে। তাই ২০ জন কর্মীর মধ্যে ৮ জন কর্মী কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন। ফলে কাজ করার লোক পাওয়া যাচ্ছে না।