দ্য ওয়াল ব্যুরো: হুগলির পোলবাতে পুলকার দুর্ঘটনায় আহতদের মধ্যে দুই শিশুর অবস্থা আশঙ্কাজনক। তারা হল ঋষভ সিং ও দিব্যাংশ ভগত। তাদের চিকিৎসার জন্য এসএসকেএমে সাত সদস্যের মেডিক্যাল টিম তৈরি করা হয়েছে। তাঁরা প্রতিমুহূর্তে নজর রাখছেন এই দুই শিশুর দিকে।
হাসপাতাল সূত্রে খবর, শুক্রবার রাতেই অস্ত্রোপচার হয়েছে ঋষভের। এই মুহূর্তে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছে তাকে। কৃত্রিম ফুসফুসের সাহায্যে শ্বাস নিতে হচ্ছে তাকে। অন্যদিকে দিব্যাংশ ভর্তি ট্রমা কেয়ার ইউনিটে। শুক্রবারই হাসপাতালে ফোন করে খবর নিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শুক্রবার রাতে হাসপাতালে গিয়ে শিশুদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করেছেন কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম। সরকার সবরকম ভাবে সাহায্য করবে বলেই আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। গুরুতর আহত ঋষভ শ্রীরামপুর পুরসভার তৃণমূল কাউন্সিলর সন্তোষ (পাপ্পু) সিংয়ের ছেলে। তিনিও ঘটনার পর থেকে হাসপাতালেই রয়েছেন।
শুক্রবার সকাল সাড়ে সাতটা নাগাদ বাচ্চাদের স্কুলে আনার পথে পোলবার কামদেবপুরে দুর্ঘটনার মুখে পড়ে একটি পুলকার। ১৫ জন কচিকাঁচা ছিল গাড়িটিতে। তাদের মধ্যে পাঁচজনের আঘাত গুরুতর। গাড়িটির চালক জানিয়েছেন শ্রীরামপুর থেকে চুঁচু্ড়া খাদিনামোরের দিকে যাচ্ছিলেন তিনি। আচমকাই তাঁদের সামনে থাকা একটি লরি ইউটার্ন করে। এরপরেই নিয়ন্ত্রণ রাখতে না পেরে ওই লরিটিকে ধাক্কা মেরে পাশের একটি নয়ানজুলিতে উল্টে যায় পুলকারটি।
আশেপাশের লোকজন ছুটে এসে উদ্ধার কাজে হাত লাগান। বাচ্চাগুলিকে নিয়ে যাওয়া হয় চুঁচুড়া ইমামবাড়া হাসপাতালে। সেখানেই ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে রেখে চিকিৎসা শুরু হয় তিনটি শিশুর। কিন্তু সেখানকার ডাক্তাররা ঋষভ ও দিব্যাংশকে এসএসকেএমে রেফার করার কথা বলেন। অত অল্প সময়ের মধ্যে কলকাতায় তাদের নিয়ে আসা হবে কী ভাবে তা নিয়ে সংশয় দেখা দেয়।
জানা গিয়েছে, তখনই হুগলি জেলা তৃণমূলের সভাপতি দিলীপ যাদব যোগাযোগ করেন শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে। সাংসদের পরামর্শেই গ্রিন করিডর করে এসএসকেএমে নিয়ে আসা দুই শিশুকে। তারপর থেকে সেখানেই দু’জনের চিকিৎসা চলছে।
কী ভাবে এই দুর্ঘটনা ঘটল তার তদন্ত অবশ্য শুরু করেছে পুলিশ। জানা গিয়েছে, গাড়ির টায়ারের চিহ্ন ও গাড়িটির অবস্থা দেখে বোঝা যাচ্ছে খুব দ্রুতগতিতে তা চলছিল। এই দুর্ঘটনার পর আতঙ্কে রয়েছেন এলাকার বাসিন্দারা। হুগলির এই এলাকায় একাধিক ইংরেজি মাধ্যম স্কুল। বেশিরভাগ শিশুই পুলকারে করেই স্কুলে যাতায়াত করে। কিন্তু যেভাবে বারবার এই ধরনের দুর্ঘটনা ঘটছে, তাতে নিশ্চিন্ত হতে পারছেন না অভিভাবকরা।