দ্য ওয়াল ব্যুরো: ধ্রুবতারা আর অন্য নক্ষত্র দেখে যেমন প্রাচীন কালে মানুষ দিক ঠিক করতেন তেমনি রেললাইনকে ধ্রুবতারা ধরে নিয়ে টানা ছ’দিন হেঁটে দক্ষিণ দিনাজপুরের গঙ্গারামপুর স্টেশনে পৌঁছলেন এগারো জন শ্রমিক। উত্তরপ্রদেশের গোরক্ষপুর থেকে বিহারের কাটিহারে পৌঁছেছিলেন বাসে। তারপরে আর কোনও উপায় না পেয়ে তাঁরা হাঁটতে শুরু করেন রেললাইন ধরে।
এদিন গঙ্গারামপুর স্টেশনে ওই শ্রমিকরা এসে হাজির হওয়ার পরে তাঁদের পাশে দাঁড়ায় পুলিশ প্রশাসন। প্রশাসন থেকে তাঁদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়। পরে খাওয়া-দাওয়া করিয়ে বাড়ি পৌঁছনোর ব্যবস্থা করা হয় বলে জানান গঙ্গারামপুরের মহকুমা পুলিশ আধিকারিক (এসডিপিও) দীপকুমার দাস। স্টেশনে তাঁর সঙ্গে ছিলেন গঙ্গারামপুর থানার আইসি পূর্ণেন্দুকুমার কুণ্ডু। পরে জেলা স্বাস্থ্য দফতর জানায় উত্তরপ্রদেশ থেকে আসা শ্রমিকদের এখন কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে।
এরাজ্য থেকে অন্য রাজ্যে কাজে যাওয়া কোনও ব্যতিক্রমী ঘটনা নয়। দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার বহু বাসিন্দা বিভিন্ন সময়ে কাজের খোঁজে অন্য রাজ্যে পাড়ি দিয়েছেন। বেশিরভাগই অস্থায়ী শ্রমিক হিসাবে কাজ করেন কারখানায় বা নির্মাণশিল্পে। লকডাউনের ফলে তাঁরা কাজ হারিয়েছেন। যেটুকু যা টাকা সঞ্চয় করেছিলেন এই কদিনে তাও ফুরিয়েছে। তাই অন্য শ্রমিকদের মতো সমস্যায় পড়েন তাঁরাও। লকডাউনের মেয়াদ বাড়ায় সংকট আরও বেড়ে যায়। তখন নিজেরাই ফেরার তোড়জোড় শুরু করে দেন। শেষ পর্যন্ত এসে পৌঁছন নিজের জেলায়। এখন হোটেল বন্ধ। তাছাড়া রেললাইন ধরে হাঁটা খুব একটা নিরাপদও নয়। সব বিপত্তি কাটিয়েই অবশ্য তাঁরা ফিরে আসেন।
লকডাউন শুরু হওয়ার কয়েক দিন পর থেকে দেখা যায় যে পরিযায়ী শ্রমিকরা হেঁটে ফিরছেন ভিন রাজ্য থেকে। এরাজ্যে ঢোকার পরে অনেক সময় দেখা গেছে স্থানীয় প্রশাসন তাঁদের পাশে দাঁড়িয়ে দরকারে সাহায্য করেছে। এখন অবশ্য আটকে পড়া শ্রমিকদের ফেরাতে উদ্যোগী হয়েছে প্রশাসন নিজেই।