
শেষ আপডেট: 14 July 2020 08:21
প্রাঞ্জলের বাবা প্রদীপ দের হস্তশিল্পের ব্যবসা। কাঠ, বাঁশ প্রভৃতি কাঁচামাল দিয়ে তিনি বানান নানা ধরনের ঘর সাজানোর জিনিস, ওয়াল হ্যাঙ্গিং প্রভৃতি। সে সব তিনি ফেরি করতেন বিভিন্ন মেলায় এবং পর্যটন কেন্দ্রে। করোনা ভাইরাস মহামারীর আকার নেওয়ায় রাজ্য তথা জেলায় একে একে বন্ধ হয়ে যায় মেলা ও পর্যটনকেন্দ্রগুলি। পরে চালু হয়ে যায় লকডাউন। ফলে ব্যবসা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। মুশকিল হয়ে পড়ে সংসার চালানো। ছেলের পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়াই বা কী ভাবে সম্ভব?
এই অবস্থায় মাস্ক, স্যানিটাইজার, পিপিই কিট, অ্যাপ্রন প্রভৃতি পাইকারি বিক্রি শুরু করেছেন প্রদীপ দে। শ্রীরামপুরে জিটি রোডের ধারে রেল ব্রিজের তলায় একটা ছোট দোকানে এসব খুচরো ও পাইকারি বিক্রি করছেন। বাড়িতে মাস্ক, পিপিই এবং অ্যাপ্রন তৈরিতে তাঁর সঙ্গে হাত লাগাচ্ছে প্রাঞ্জল। বাবার সঙ্গে সামলাচ্ছে দোকান। আবার দরকার মতো অর্ডার সাপ্লাই করার জন্য মাস্ক, স্যানিটাইজার প্রভৃতি তিনি ব্যাগে ভরে জায়গা মতো সাইকেলে নিয়ে পৌঁছে দিয়ে আসছেন। এসবের মাঝেই চলছে পড়াশোনা।
লকডাউন বদলে দিয়েছে অনেক কিছু। বদলে দিয়েছে অনেকের রুটি-রুজি। কেউ হারিয়েছেন কাজ, কেউ বদলেছেন পেশা। অনেকে অপেক্ষায় আছেন কবে আবার পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে। এই অবস্থায় জীবনের অঙ্ক হঠাৎ বদলে গেছে প্রাঞ্জলের। বাবার পাশে তিনি দাঁড়াতে চান ঠিকই তবে ঠিক এই ভাবে দাঁড়াতে হবে সে কথা ভাবেনি হয়তো। এখনও তিনি চান জীবনে ভাল ভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়ে সংসারের হাল ধরতে।