দ্য ওয়াল ব্যুরো: বয়স সবে মাত্র দশ। এরই মধ্যে দশটি অ্যাপ বানিয়ে ফেলেছে আলিপুরদুয়ার শহরের অনুব্রত সরকার। এমন দুর্লভ কৃতিত্বের জন্য এই বিস্ময় বালককে সংবর্ধিত করলেন আলিপুরদুয়ারের বিধায়ক সৌরভ চক্রবর্তী। তাঁর সঙ্গে অনুব্রতর বাড়িতে যান ম্যাকউইলিয়াম হাইস্কুলের শিক্ষক কনৌজবল্লভ গোস্বামীও। সৌরভ চক্রবর্তী এদিন বলেন, "অনুব্রত বিস্ময়বালক। গোটা বিশ্বে হইচই ফেলে দেওয়ার মতো কাজ ও করেছে। ওকে উৎসাহ দিতে ওর বাড়িতে এসেছি। ও ভবিষ্যতে অনেক বড় হবে। আমাদের সকলের মুখ উজ্জ্বল করবে।"
টিকটক সহ চিনের বেশ কয়েকটি অ্যাপ বন্ধ করে দিয়েছে ভারত। এই অবস্থায় সম্পূর্ণ নিজের চেষ্টায় বেশ কয়েকটি জনপ্রিয় অ্যাপ বানিয়ে নজির গড়েছে অনুব্রত। তার বাড়ি আলিপুরদুয়ার শহরের নিউটাউন এলাকায়। ইতিমধ্যেই অনুব্রতর অ্যাপ আমেরিকা, ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, বাংলাদেশ-সহ বিভিন্ন দেশের সাধারণ মানুষ ব্যবহার করছেন বলে দাবি। ডিজিট্যাল প্ল্যাটফর্মে চিনকে ঠেকাতেই এই উদ্যোগ বলে অনুব্রত জানিয়েছে। শুধু অ্যাপ তৈরিই নয়, বিশ্বের কমপক্ষে একশোটি দেশের রাজধানীর নাম চটপট সে বলে দিতে পারে। পাশাপাশি অনলাইন দাবা, ক্যুইজ-সহ বিভিন্ন ব্যাপারে সে পারদর্শিতার পরিচয় দিয়েছে।
তার বাবা কৌশিক সরকার হাইস্কুলের শিক্ষক, মা শান্তা ভট্টাচার্যও শিক্ষিকা। অনুব্রত তাঁদের ছোট ছেলে। সে আলিপুরদুয়ার শহরের একটি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলের পঞ্চম শ্রেণীর পড়ুয়া। বছর পাঁচেক বছর বয়স থেকে সে কম্পিউটারে যেমন পারদর্শী তেমনি পড়াশোনাতেও ভাল। ছোট বয়সে দেশ ও রাজধানীর নাম বলা, কম্পিউটার ব্রাউজ করে নতুন নতুন তথ্য বের করা – এসবে পারদর্শী হলেও তাতে তেমন গুরুত্ব দেননি তাঁর মা-বাবা। কিন্তু পরে তাঁরা বুঝতে পারেন ছেলেকে উপযুক্ত প্রশিক্ষণ দিলে কম্পিউটার নিয়ে এগোতে পারবে।
একটি অনলাইন সংস্থায় সাময়িক প্রশিক্ষণ নিলেও কোনও কারণে তা ছেড়ে দেয় অনুব্রত। পরে নিজেই পড়াশোনার পাশাপাশি বাড়ির কম্পিউটার ঘেঁটে একের পর অ্যাপ তৈরি করে। গুগল প্লে-স্টোরে অনুব্রতর তৈরি একটি অ্যাপ ফাইভ স্টার রেটিং করেছে। অ্যাপগুলির সিকিওরিটি একশো শতাংশ থাকায় গুগল প্লে স্টোর থেকে তা ডাউনলোড করা যাচ্ছে। তার তৈরি অ্যাপের মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় হয়েছে মিট অ্যাপ। একেবারে হোয়াটসঅ্যাপের আদলে তৈরি এই অ্যাপ ব্যবহার করে মেসেজ পাঠানো যায়, ভিডিও কল, ভয়েস রেকর্ড প্রভৃতিও করা যায়।
অনুব্রতর কথায়, “মিট অ্যাপ এমন একটি অ্যাপ যার সিকিওরিটি একশো শতাংশ। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের মানুষ এই অ্যাপ ব্যবহার করতে পারলেও চিন তা পারবে না। চিন আমাদের দেশের সেনাকে আক্রমণ করছে, আমাদের বিভিন্ন তথ্য হাতিয়ে নিচ্ছে। সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে দেশের কথা মাথায় রেখে এই অ্যাপ তৈরি করেছি। মিট অ্যাপ ছাড়াও স্যাডো বয়েস অ্যাডভেঞ্চার, ব্রিকোমিটার, পিঞ্জ হিটার ব্যাটসম্যান, লুডোশিপ সহ কয়েকটি অ্যাপ তৈরি করেছি। আগামী দিনে অনলাইন শিক্ষার উপর একটি অ্যাপ তৈরি করতে কাজ শুরু করেছি।”
অনুব্রতর বাবা কৌশিক সরকার বলেন, “ছোট থেকেই ছেলে পড়াশোনার পাশাপাশি কম্পিউটারে সড়গড়। মাত্র পাঁচ বছর বয়স থেকেই ও ইন্টারনেট, বিভিন্ন অ্যাপ ও তার ফিচার সম্পর্কে জানতে শুরু করে দেয়। গত এক বছর ধরে ও নিজে বিভিন্ন ধরনের অ্যাপ তৈরি করছে। মাস ছয়েক আগে একদিন ও বলে যে মিট নামে একটি অ্যাপ তৈরি করেছে। এই অ্যাপটি গুগল প্লে স্টোরে দিতে চায়। এর জন্য যাবতীয় সাহায্য ওকে আমরা করি। পরের দিন দেখি আমাদের ছেলের তৈরি অ্যাপ গুগল প্লে স্টোরে দেখাচ্ছে। এখনও পর্যন্ত প্রায় দশটি অ্যাপ গুগল প্লেস্টোর থেকে ডাউনলোড করা যাচ্ছে।”
তার মা শান্তা ভট্টাচার্য বলেন, “ছোট থেকেই গুগল প্রধান সুন্দর পিচাইকে নিজের আদর্শ বলে মনে করে অনুব্রত। ও চায় বড় হয়ে তাঁর সঙ্গে কাজ করতে। তাই এখন থেকেই বিভিন্ন অ্যাপ-সহ সার্চ ইঞ্জিন তৈরি করতে ও মগ্ন হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি পড়াশোনাও করে যাচ্ছে সমান তালে। গুগলের মতো কোনও সংস্থা ছেলের এই কাজে প্রযুক্তিগত সাহায্য করলে ও আরও ভাল কিছু তৈরি করতে পারবে বলে মনে করি।”
অনুব্রতর এই সাফল্যের কথা শুনে আলিপুরদুয়ারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান তাকে সংবর্ধনা জানাতে চলেছে।