
শেষ আপডেট: 17 January 2020 08:47
এবার আসছে আবেগের কথা। এই সংযুক্তির বিরুদ্ধে যাঁরা বলছেন, তাঁদেরও যুক্তির যথেষ্ট বৈধতা রয়েছে। কী রকম?
একটা ১৩০ বছর পুরনো ক্লাব, যারা স্বাধীনতার আগে খালি পায়ে বুট পরা ব্রিটিশদের হারিয়েছে, তাদের ক্লাবের ঐতিহ্য, আভিজাত্য, আবেগটা সবার থেকে বড়। ক্লাবের পালতোলা নৌকো, জার্সির সবুজ-মেরুন রঙটাই লক্ষ লক্ষ লোকের ভালবাসার রসদ। কোনও কর্পোরেট সংস্থার ঝাঁ চকচকে কফিশপ বা জিমনাশিয়াম সেই জায়গা নিতে পারে না। ক্লাবের সঙ্গে অন্য কোনও নাম, কিংবা জার্সি-লোগোতে বদল তাঁরা মেনে নেবেন কেন? তাই নেমে আসছে প্রতিবাদ। আর শুধু সমর্থকরাই নন, প্রতিবাদ করছেন এই ক্লাবকে নিজের সবটা দেওয়া প্রাক্তন ফুটবলার থেকে শুরু করে কমিটি মেম্বাররাও।
বৃহস্পতিবার সংযুক্তির পরেই এক সাক্ষাৎকারে আরপিএসজি গ্রুপের চেয়ারম্যান সঞ্জীব গোয়েঙ্কা বলেছেন, "...দুটি ফুটবল ক্লাব একসঙ্গে এসে একটা নতুন মিলিত পরিচয় হবে। এই নতুন ফুটবল ক্লাবের নামে এটিকে ও মোহনবাগান দুটি নামই থাকবে।" অর্থাৎ তিনি কি বলতে চাইলেন, নতুন একটা ক্লাবের জন্ম হল। নাহলে বারবার "নতুন ফুটবল ক্লাব" এই কথাটা তিনি বলবেন কেন? এই সংযুক্তিকরণের সময়েও তিনি এবং উৎসব পারেখ কেন এটিকের জার্সি গায়ে মোহনবাগানের জার্সি হাতে ধরে ছবি তুললেন। কেন সবুজ-মেরুন জার্সি পরলেন না? তাহলে কোন ক্লাবকে তাঁরা বেশি গুরুত্ত্ব দিচ্ছেন? এটিকে না মোহনবাগান?
যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে গেলে পরিবর্তন দরকার। ফুটবলেও সেই পরিবর্তনটা অবশ্যম্ভাবী। ইনভেস্টর না এলে কোনও ফ্যান-বেসড ক্লাব এগিয়ে যেতে পারে না। আর কেউ আর্থিক সাহায্য করলে সে ক্লাবের শেয়ার কিনবে, বা ক্ষমতা নিজেদের দখলে নেবে সেটাই দস্তুর। এগুলো যেমন সত্যি, তেমনই সত্যি একটা ক্লাবের ঐতিহ্য, আবেগ, গর্ব, সম্মান, ভালবাসা। কোনও কিছুর বিনিময়েই যা বিকিয়ে দেওয়া যায় না। আপস করা আর মাথা নুইয়ে দেওয়ার মধ্যে বিস্তর ফারাক। আর সেরকম হলে তো প্রতিবাদ হবেই। গোষ্ঠপাল সরণী থেকে কিন্তু ইতিমধ্যেই অনেক সবুজ-মেরুন জার্সিধারীরা হাঁটা দিয়েছেন বাড়ির দিকে। চোখে জল নিয়ে তাঁরা বলছেন, ক্লাবটাই নেই। আর খেলা দেখে কী করব? টুটুবাবুরা শুনছেন তো!