দ্য ওয়াল ব্যুরো: গুরুতর অসুস্থ প্রাক্তন ফুটবলার প্রদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার তাঁকে ভর্তি করা হয় ইএম বাইপাসের ধারের একটি বেসরকারি হাসপাতালে। এদিন দুপুরে সল্টলেকের বাড়িতেই অসুস্থ হয়ে পড়েন ৬২-র এশিয়াডে ভারতের সোনাজয়ী দলের ফুটবলার। তারপরই তাঁকে ভর্তি করা হয় হাসপাতালে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তাঁর অবস্থা এখন স্থিতিশীল।
দীর্ঘদিন ধরেই স্নায়ু রোগে আক্রান্ত পিকে বন্দ্যোপাধ্যায়। হাঁটাচলাও বন্ধ বহুদিন। কোনও অনুষ্ঠানে গেলে হুইল চেয়ারই তাঁর সঙ্গী। কথাও জড়িয়ে যায়। সেই সমস্যাই বেড়েছে বলে তাঁর পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে।
খেলোয়াড় জীবনে কলকাতা ময়দানের তিনপ্রধানের জার্সি চাপাননি পিকে। সারাজীবন খেলেছেন ইস্টার্ন রেলের জার্সি গায়ে। ৫৮ সালে তাঁর নেতৃত্বেই কলকাতা লিগ জিতেছিল ইস্টার্ন রেল। প্রসঙ্গত সেই ৫৮ সালের পর এবারই প্রথম তিন প্রধানের বাইরের দল হিসেবে পিয়ারলেস স্পোর্টস ক্লাব ঘরোয়া লিগ জেতে।
বড় ক্লাবে না খেললেও জাতীয় দলের অন্যতম শক্তি ছিলেন প্রদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। একটা সময় ভারতীয় ফুটবল বলতে একসঙ্গে উচ্চারিত হতো তিন বাঙালির নাম। মান্না-পিকে-চুনী।
১৯৫৬ সালের মেলবোর্ন অলিম্পিক্সে দেশের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করেন পিকে। ১৯৬০ সালের রোম অলিম্পিক্সে ফ্রান্সের বিরুদ্ধে তাঁর গোলেই সমতা ফিরিয়েছিল ভারত। ১৯৫৮, ১৯৬২ ও ১৯৬৬ সালের এশিয়ান গেমসে ভারতের জার্সি পরে খেলেছিলেন তিনি। পেয়েছেন পদ্মশ্রী সম্মানও। ১৯৬২ সালের জার্কার্তা এশিয়ান গেমসে ভারত সোনা জিতেছিল ভারত।
খেলা ছাড়ার পর ময়দানে কোচিং করিয়েও সাফল্য পেয়েছিলেন তিনি। মনোরঞ্জন ভট্টাচার্য, সুব্রত ভট্টাচার্য, গৌতম সরকার, সুধীর কর্মকার, সমরেশ চৌধুরী, মহম্মদ হাবিব থেকে প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রশান্ত বন্দ্যোপাধ্যায়, কৃষ্ণেন্দু রায়, বিদেশ বসু, মানস ভট্টাচার্য--একাধিক তারকার জন্ম হয়েছে তাঁর কোচিং-এ।
ময়দানি ফুটবলে একটা সময়ে পিকে-অমলের দুই ঘরানার কোচিং ফুটবল মহলকে দ্বিধাবিভক্ত করে দিয়েছিল। অমলের ছিল অয়াধুনিক ছক। আর প্রদীপের পছন্দ ছিল ট্র্যাডিশনাল ছকের সঙ্গে আধুনিকতার মিশেল। ১৯৯৭ সালে ফেডারেশন কাপ সেমিফাইনালে ইস্টবেঙ্গল-মোহনবাগান ম্যাচ কার্যত অতিরিক্ত উত্তাপ পেয়েছিল এই দুই কোচের কৌশলের জন্যই। আর সেই ম্যাচে মোহনবাগান কোচ অমল দত্তের ডায়মন্ড ছক ভেঙে চুরমার করে দিয়েছিল পিকের ইস্টবেঙ্গল। বাইচুং-এর হ্যাট্রিকে মোহনবাগানকে ৪-১ গোলে হারায় ইস্টবেঙ্গল।