বামপন্থাকেই বিকল্প মনে করতেন সৌমিত্র, শেষ নিবন্ধেও লিখেছিলেন সে কথা
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ছাত্রজীবন থেকেই বামপন্থী রাজনীতিতে আকৃষ্ট হয়েছিলেন। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত সেই চিন্তাধারাতেই স্থির ছিলেন তিনি। বর্ষীয়ান অভিনেতা সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের মৃত্যুর পর বাম নেতাদের মুখে মুখে ফিরছে সেই কথা।
কলেজে পড়ার সময়ে
শেষ আপডেট: 15 November 2020 16:53
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ছাত্রজীবন থেকেই বামপন্থী রাজনীতিতে আকৃষ্ট হয়েছিলেন। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত সেই চিন্তাধারাতেই স্থির ছিলেন তিনি। বর্ষীয়ান অভিনেতা সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের মৃত্যুর পর বাম নেতাদের মুখে মুখে ফিরছে সেই কথা।
কলেজে পড়ার সময়ে বঙ্গীয় প্রাদেশিক ছাত্র ফেডারেশন করতেন সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়। পরে সিপিআইয়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয় তাঁর।
বামফ্রন্ট সরকারে থাকার সময়ে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ছিলেন সৌমিত্রবাবু। চলচ্চিত্র উত্সবে চিলির কোন ছবি আনা হবে, নিকারাগুয়ার নতুন কোন পরিচালক ভাল ছবি করছেন এসব নিয়ে তত্কালীন তথ্য সংস্কৃতি মন্ত্রী বুদ্ধদেববাবুর অন্যতম পরামর্শদাতা ছিলেন সৌমিত্রবাবু।

সৌমিত্রবাবুর মৃত্যুর খবর বুদ্ধদেব ভট্টচার্যকে এদিন জানানো হয় বেশ কিছুটা পরে। তারপর বুদ্ধবাবুর তরফে একটি শোকবার্তাও জানানো হয়। নন্দীগ্রাম, সিঙ্গুর পর্বে দেখা গিয়েছিল বুদ্ধবাবুর ঘনিষ্ঠ বৃত্তে থাকা অনেক শিল্পী, সাহিত্যিক, বুদ্ধিজীবি রাস্তায় নেমে বিরোধিতা করেছিলেন। কিন্তু সেই পর্বেও অবস্থান বদলাননি সৌমিত্রবাবু।
এবছরেই একটি বামপন্থী পত্রিকার শারদ সংখ্যায় নিবন্ধ লেখেন সৌমিত্রবাবু। সাম্প্রতিক সময়ে ধর্মীয় বিভাজন নিয়ে তাঁর উদ্বেগের কথা লিখেছিলেন ফেলুদা। নাম না করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীরও সমালোচনা করেন। লেখেন, "ভাবলে অবাক লাগে, যাঁর আমলে ২০০২ সালে গুজরাতে ভয়ঙ্কর দাঙ্গা হল সেই তিনিই আজ ভারতবর্ষের মসনদে।"
ওই নিবন্ধেরই একদম শেষে তিনি লেখেন, "গোঁড়ামি তৈরি করতেই চালাকি করে ধর্ম ও রাজনীতিকে মিশিয়ে দেওয়া হচ্ছে। কে রামকে ভালবসল, কে রহিমকে-- তা কোনও ব্যাপারই হতে পারে না। তাই বার বার মনে হয়, এসবের বিকল্প হতে পারে একমাত্র বামপন্থাই।"