দ্য ওয়াল ব্যুরো: নিজেদের হেফাজতে চাইল না সিবিআই। দীর্ঘ সওয়াল-জবাবের পর শুক্রবার বিকেলে ভেঙ্কটেশ ফিল্মসের কর্ণধার শ্রীকান্ত মোহতাকে ১৪ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দিল খুরদা রোড আদালত।
শুক্রবার ১০টা ৪০ মিনিটের বিমানে কলকাতা থেকে শ্রীকান্তকে নিয়ে যাওয়া হয় ভুবনেশ্বরে। সঙ্গে ছিলেন রোজভ্যালির তদন্তকারী অফিসার চোজম শেরপা-সহ আরও তিন সিবিআই আধিকারিক। এরপর তাঁকে তোলা হয় খুরদা আদালতে। সেখানেই শ্রীকান্তের আইনজীবী এবং সিবিআই-এর আইনজীবীর দীর্ঘ সওয়াল-জবাব চলে। শুনানির শুরুতেই সিবিআই-এর তরফে জানিয়ে দেওয়া হয়, তারা টলিউডের নাম্বার ওয়ান প্রযোজককে নিজেদের হেফাজতে নিতে চান না। তারা চান শ্রীকান্তকে জেলে রেখে তদন্ত করতে। পাল্টা শ্রীকান্তের আইনজীবী বলেন, তাঁর মক্কেলের শরীর ভাল নেই। নিজ খরচায় স্থানীয় বেসকারি হাসপাতালে রাখার অনুমতি চান আদালতের কাছে। পাল্টা সিবিআইয়ের আইনজীবী বলেন, শ্রীকান্তের শরীর যদি খারাপ হয় তাহলে জেল হাসপাতালেই তাঁর চিকিৎসা হোক।
প্রযোজকের আইনজীবী আদালতে দাবি করেন, সিবিআই-এর হাতে কোনও প্রমাণই নেই। তাই তারা হেফাজতে নিতে চায়নি। পাল্টা সিবিআইয়ের কৌঁসুলি বলেন, শ্রীকান্তের বিরুদ্ধে যা তথ্যপ্রমাণ রয়েছে তা প্রকাশ্যে বলা যাবে না। তাতে তদন্তে প্রভাব পড়বে। আদালত চাইলে সিক্রেট কেস ডায়েরি জমা দিতে পারে সিবিআই। তা দেখলেই পরিষ্কার হয়ে যাবে। এরপর বিকেলে সওয়া পাঁচটা নাগাদ আদালত ১৪ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দেয়। শ্রীকান্তকে রাখা হবে ভুবনেশ্বর জেলে।
সিবিআই-এর আধিকারিকদের দাবি, রোজভ্যালি কাণ্ডে আগে বেশ কয়েকবার নোটিস পাঠানো হয়েছিল শ্রীকান্তকে। কিন্তু তিনি হাজিরা দেননি। শেষ পর্যন্ত বৃহস্পতিবার সিবিআই আধিকারিকরাই পৌঁছে যান কসবার অভিজাত শপিংমলের ১৮ তলায় তাঁর অফিসে। সেখানে গোয়েন্দারা পৌঁছনোর পর ঘটে আরএক কাণ্ড। জানা গিয়েছে ভেঙ্কটেশের অফিস থেকে কলকাতা পুলিশের এক বড় কর্তাকে ফোন করা হয়। তাঁর নির্দেশেই পুলিশবাহিনী পৌঁছোয় সেখানে। এরপর সিবিআই আধিকারিকরা পুলিশ দেখে ফোন করেন রাজ্য প্রশাসনের সর্বোচ্চ কর্তাকে। পষ্টাপষ্টি জানিয়ে দেওয়া হয়, এই তদন্ত চলছে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে। পুলিশ যদি বাধা দেয় সেটা ঠিক কাজ হবে না। এরপরই পুলিশকে ফিরে আসতে বলা হয়। বাইরে বেরিয়ে কসবা থানার পুলিশ জানায়, গণ্ডগোলের খবর পেয়ে তাঁরা সেখানে এসেছিলেন। এরপর সেখান থেকে শ্রীকান্তকে সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে তুলে নিয়ে আসে সিবিআই। তদন্তে অসহযোগিতার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয় তাঁকে।