
শেষ আপডেট: 15 September 2021 13:35
উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. ইন্দ্রজিৎ সাহা বলেছেন, জলপাইগুড়িতে জাপানি এনসেফেলাইটিসে আক্রান্ত একজন, ডেঙ্গি পজিটিভ অন্তত পাঁচ জন। সেই সঙ্গেই পোকায় কাটা জ্বর নিয়ে হাসপাতালে শিশুদের নিয়ে আসছেন বাবা-মায়েরা। ইতিমধ্যেই ৬ জন বাচ্চা পোকায় কাটা জ্বর বা স্ক্রাব টাইফাসের সংক্রমণে আক্রান্ত। ডাক্তারবাবু বলছেন, প্রতিদিন উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে অনেক শিশুই জ্বর ও অন্যান্য উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হচ্ছে। অন্তত ৬৫ জনের নমুনা কলকাতায় স্কুল অব ট্রপিক্যাল মেডিসিনে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছিল। ৪৯ জনের রিপোর্ট পাওয়া গেছে। তাতে দেখা গেছে, উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলা থেকে জাপানি এনসেফেলাইটিস, ডেঙ্গি, স্ক্রাব টাইফাসে আক্রান্ত হয়েছে শিশুরা। শিলিগুড়িতে অন্তত ২০০ জন অজানা জ্বরে আক্রান্ত। তাদের শরীরে কী ধরনের ভাইরাস ঢুকেছে তা এখনও জানা যায়নি।
ডা. ইন্দ্রজিৎ সাহা বলছেন, স্ক্রাব টাইফাসের সংক্রমণ হলে ধুম জ্বর আসে। রক্ত পরীক্ষা করে ধরা পড়ে স্ক্রাব টাইফাসের ব্যাকটিরিয়া। ডেঙ্গি এবং স্ক্রাব টাইফাসের রোগের লক্ষণ অনেকটা একই। তাই অনেক সময় রোগ নির্ণয়ে সমস্যা হয়। এডিস মশার কামড়ে যেমন ডেঙ্গি হয়, তেমনই এই ব্যাকটিরিয়া দেহে ঢোকে ছোট্ট একটা লাল পোকার কামড়ে। ‘ট্রম্বিকিউলি়ড মাইটস’ নামে ওই পোকা কামড়ালে কিছু বোঝা যায় না, পরে প্রবল জ্বর আসে। ঠিক সময়ে চিকিৎসা না হলে সব অঙ্গ বিকল হয়ে যেতে থাকে। জ্বরের ধরন ও পোকা কাটা স্থানের ক্ষত দেখে রোগীদের চিহ্নিত করা হয়।
শিশুরোগ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, করোনার সময় ভাইরাল জ্বরের প্রকোপ বাড়ায় উদ্বেগ আরও বেড়েছে। বাচ্চাদের অনেক বেশি সাবধানে রাখতে হবে। হাত ধোওয়া, মাস্ক পরা এগুলো তো আছেই, বাচ্চাদের পেশির খিঁচুনি হচ্ছে কিনা বা শ্বাসের সমস্যা হচ্ছে কিনা তা খেয়াল রাখতে হবে। এখন জ্বরের সঙ্গে বমি ও ডায়েরিয়ার উপসর্গও দেখা যাচ্ছে। রোগের উপসর্গ বুঝে চিকিৎসা করতে হবে।
পড়ুন দ্য ওয়ালের সাহিত্য পত্রিকা 'সুখপাঠ'