চিতাবাঘ কেন বার বার লোকালয়ে ঢুকে পড়ছে, কীসের লোভে?
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বছর দুয়েক আগের ঘটনা। শিলিগুড়ির সেবক রোডে চিতাবাঘের আতঙ্ক ছড়িয়েছিল। সেই সঙ্গেই একটা অদ্ভুত ঘটনা চোখে পড়েছিল এলাকাবাসীর। রাত বাড়লেই নিঝুম রাস্তায় হঠাৎ করেই আবির্ভাব হচ্ছিল একটি পূর্ণবয়স্ক চিতার। রাস্তার কুকুর বাহিনীর চিল
শেষ আপডেট: 27 January 2022 08:33
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বছর দুয়েক আগের ঘটনা। শিলিগুড়ির সেবক রোডে চিতাবাঘের আতঙ্ক ছড়িয়েছিল। সেই সঙ্গেই একটা অদ্ভুত ঘটনা চোখে পড়েছিল এলাকাবাসীর। রাত বাড়লেই নিঝুম রাস্তায় হঠাৎ করেই আবির্ভাব হচ্ছিল একটি পূর্ণবয়স্ক চিতার। রাস্তার কুকুর বাহিনীর চিল চিৎকারে প্রাণ ওষ্ঠাগত হচ্ছিল এলাকাবাসীর। আর সকাল হলেই নজরে পড়ছিল জায়গায় জায়গায় ছড়িয়ে পথ কুকুরের খুবলানো দেহ। রাস্তা থেকে কুকুর একপ্রকার লোপাটই হয়ে যাচ্ছিল।
গভীর জঙ্গলের আস্তানা ছেড়ে মাঝেমধ্যেই লোকালয়ে ঢুকে পড়ছে চিতাবাঘ। খাবারের খোঁজেই যে তারা বারবার লোকালয়ে আসছে তা বন দফতর তো বটেই অজানা নয় আমআদমিরও। তবে মানুষের রক্তের স্বাদ পেয়ে নয়, রাস্তায় ঘুরে বেড়ানো কুকুরের মাংসের লোভেই নাকি এমন অভিযান। এ কথাই জানাচ্ছে বন দফতর।
বৃহস্পতিবার সাতসকালে কোচবিহার শহরের আমড়াতলার জনবহুল এলাকায় ঢুকে পড়ে একটি চিতাবাঘ। উঠোন ঝাড় দিতে থাকা এক মহিলার পাশ দিয়ে তীরবেগে ছুট মারে বাঘটি। বাঘ দেখেই চেঁচিয়ে ওঠেন তিনি। চিতাবাঘটি তখন পাশের একটি বাড়ির বাথরুমে ঢুকে পড়ে। মনোজ সরকার নামে সেই ব্যক্তির বাড়ি থেকে চিতাবাঘটিকে পাকড়াও করতেই কালঘাম ছুটে যায় বনকর্মীদের। আর সারা সকালজুড়ে চিতাবাঘ দেখতেই হুলস্থুল শুরু হয়ে যায় শহরে।
এলাকাবাসীরা বলছেন, রাতভর গোটা এলাকায় টহল দিয়ে ওই ব্যক্তির বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছিল বাঘটি। বন দফতর জানাচ্ছে, কোচবিহার লাগোয়া এলাকায় পাতলাখাওয়া জঙ্গলে চিতাবাঘ আছে। সেখান থাকে মাঝে মাঝে লোকালয়ে ঢুকে পড়ে। তাছাড়া জলদাপাড়ার জঙ্গলও রয়েছে। সেখান থেকেও বাঘ ঢুকে পড়ে লোকালয়ে। তবে মানুষের লোভে জনবহুল জায়গায় চিতাবাঘ আসে না। তারা লোকালয় ঢোকে মূলত পথ কুকুরদের লোভেই।
জঙ্গলে খাবারের অভাব বা শারীরিকভাবে অসুস্থ, আহত বাঘ সহজলভ্য শিকারেরই খোঁজ করে। লোকালয়ে ঢুকলে পথ কুকুর নাগালেই পাওয়া সম্ভব। তাছাড়া কুকুরের মাংসের প্রতি চিতাবাঘের আকর্ষণও লক্ষ্য করা গেছে বহুক্ষেত্রে। দেশের বিভিন্ন জায়গায় পথ কুকুর বা পোষ্য কুকুরের ওপর চিতাবাঘের হামলা নিয়ে খবর সামনে এসেছে। কোচবিহারের ডিভিশনাল ফরেস্ট অফিসার সঞ্জীব সাহা জানিয়েছেন, রাস্তার কুকুরের মাংসের আকর্ষণই বারবার লোকালয়ে টেনে আনছে চিতাবাঘকে। তাই এমন পরিস্থিতি হলে বন্যপ্রাণীদের থেকে নিজেদের দূরে রাখার পরামর্শ দেন তিনি।
পড়ুন দ্য ওয়ালের সাহিত্য পত্রিকা 'সুখপাঠ'