দ্য ওয়াল ব্যুরো: মাঝেরহাট সেতু নিয়ে রেলকে দুষে চিঠি লিখেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধবার নবান্নতে পাল্টা চিঠি পাঠাল রেল। একাধিক বিষয় সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রকের তরফে। যাতে স্পষ্ট, রেলের তরফে বোঝানো হয়েছে রাজ্য এমন অনেক কিছু প্রক্রিয়া বকেয়া ফেলে রেখেছে যার জন্য ছাড়পত্র দিতে দেরি হচ্ছে।
দু’দিন আগেই মাঝেরহাট ব্রিজ নিয়ে কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী পীযূষ গোয়েলকে চিঠি লিখেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই চিঠিতে অভিযোগের আঙুল তুলে মমতা লিখেছিলেন, রেলকর্তৃপক্ষ ছাড়পত্র দিচ্ছে না বলেই মাঝেরহাট সেতুর কাজ এগনো যাচ্ছে না। দ্রুত তা চালু করার জন্য রেলমন্ত্রীর হস্তক্ষেপও দাবি করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী।
এদিন রেলের তরফে নবান্নে যে চিঠি এসেছে তাতে বলা হয়েছে, লঞ্চিং স্কিমের নক্সা ঠিক করে তা দ্রুত দিতে হবে। ব্রিজের রক্ষণাবেক্ষণ সংক্রান্ত চুক্তির কথাও বলা হয়েছে ওই চিঠিতে। ব্রিজ তৈরিতে যে যন্ত্র ব্যবহার হবে সে ব্যাপারেও রেলকে রাজ্যের তরফে চুক্তি করতে করতে হবে। যৌথ পরিদর্শনের ব্যাপারেও প্রয়োজনীয় তথ্য জানাতে হবে রেল কর্তৃপক্ষকে।
২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরের গোড়াতে ভেঙে পড়েছিল মাঝেরহাট সেতু। মৃত্যু হয়েছিল দু’জনের। সেই সময়েই রাজ্যের তরফে বলা হয়েছিল, ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যে নতুন মাঝেরহাট সেতু চালু করা হবে। কিন্তু সেপ্টেম্বর পেরিয়ে নভেম্বর শেষ হতে চললেও, মাঝেরহাট সেতুর কাজ এখনও অনেকটা বাকি।
মুখ্যমন্ত্রী যে চিঠি রেলমন্ত্রীর উদ্দেশে লিখেছিলেন, তাতে উল্লেখ ছিল, এই সেতু ভেঙে যাওয়ার ফলে কলকাতার সঙ্গে দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার যোগাযোগে ব্যাপক সমস্যা হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী এও লেখেন, সামনেই পৌষ সংক্রান্তি। লক্ষ লক্ষ তীর্থযাত্রী গঙ্গাসাগরের উদ্দেশে আসবেন। তাই তার আগে যাতে রেলমন্ত্রক প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র দেয়। মুখ্যমন্ত্রী উল্লেখ করেছিলেন, মূল কাঠামোর কাজ হয়ে গিয়েছে। এবার যদি রেলমন্ত্রক ছাড়পত্র দেয় তাহলেই উপরিকাঠামোর কাজ শেষ করা যাবে। কিন্তু এদিনের পাল্টা চিঠি দেখে অনেকেই বলছেন, একটা সেতু নিয়ে দোষারোপ, পাল্টা দোষারোপের পালা চলছে। অন্যদিকে অসংখ্য মানুষকে প্রতিদিন যানজটের যন্ত্রণা পোয়াতে হচ্ছে।