
শেষ আপডেট: 11 August 2018 04:43
দ্য ওয়াল ব্যুরো: একজন চেয়ার চলে যাওয়ার পর বেশ কয়েকমাস জনসমক্ষে আসেননি। আরএক জন এলেন, দেখলেন এবং জয় করে নিলেন কর্মীদের মন। ব্যবধানটা সাত বছরের। ত্রিপুরা থেকে বাংলা। আগরতলা থেকে কলকাতা। বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য আর মানিক সরকার।
দীর্ঘদিন ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন মানিক সরকার। গত নির্বাচনে উত্তর-পূর্বের এই রাজ্যের বামদূর্গ উড়িয়ে দিয়েছে গেরুয়াবাহিনী। মুখ্যমন্ত্রী থেকে মানিকবাবু এখন বিরোধী দলনেতা। কিন্তু বিষ্যুৎবারের বারবেলায় আগরতলার রাস্তায় অন্য মেজাজে দেখা গেল সিপিএমের এই পলিটব্যুরোর সদস্যকে। ৯ অগস্ট সারা দেশেই কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদী সরকারের বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমেছিল সিপিএমের শ্রমিক-কৃষক সংগঠন। এক বর্ষীয়ান বাম নেতার কথায়, একই দাবিতে একই দিনে দেশের সাড়ে চারশো জেলায় কর্মসূচি হচ্ছে এটা স্বাধীনতার পর দেখা যায়নি। সেই কর্মসূচিতেই ত্রিপুরায় পুলিশের বিরুদ্ধে খন্ডযুদ্ধে সামনে দাঁড়িয়ে নেতৃত্ব দিলেন মানিকবাবু। জলকামানের জলে ভিজলেন। ভিজে অবস্থায় বক্তৃতা করলেন। তারপর গ্রেফতার বরণ করলেন।
বৃহস্পতিবারের পর অনেক কট্টরপন্থী বামনেতাদেরই বলতে শোনা যাচ্ছে, ত্রিপুরায় সরকার চলে যাওয়ার পরপরই যে মেজাজে মানিক সরকাররা নেমেছেন বাংলায় এগারো সালে সেটা হয়নি।
এখন বুদ্ধবাবুর শরীর খারাপ। দলীয় পদে নেই। শুধু নামকাওয়াস্তে রাজ্যকমিটির আমন্ত্রিত সদস্য। পার্টি অফিসেও আসেন না। দৃষ্টি শক্তি ক্রমশ ম্লান হচ্ছে। কিন্তু এগারোর ভোটের পর তো তা ছিল না। তখন কি করেছিলেন প্রমোদ দাশগুপ্তর এই শিষ্য?
২০১১ সালের নির্বাচনের ফল প্রকাশের দিন দুপুরে রাজভবনে রাজ্যপাল গোপালকৃষ্ণ গান্ধীকে পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার পর সেই যে মুখ লুকিয়েছিলেন তারপর তাঁর বেরোতে সময় লেগে গিয়েছিল প্রায় চার মাস। মাঝে সৌজন্যের রাজনীতি দেখাতে বিমান বসু এবং অসীম দাশগুপ্তকে নিয়ে রাজভবনের উঠোনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে কয়েক ঘণ্টা ছিলেন। তারপর তাঁকে দেখা গিয়েছিল ওই বছর সেপ্টেম্বর মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে হুগলির শ্রীরামপুরে একটি জনসভায়। এরপর সিপিএমের জেলা সম্মেলনগুলি শুরু হয়ে যায় নভেম্বর- ডিসেম্বর থেকে। কয়েকটি জেলার প্রকাশ্য সমাবেশে গেলেও কোনও বড় আন্দোলনে তাঁকে সামানের সারিতে দেখা যায়নি। দু'দুটো নবান্ন অভিযান করেছে বামেরা কিন্তু বুদ্ধবাবুর রুটিন বদলায়নি।
অনেকে তরুণ বাম নেতারা আবার বলছেন মানিক সরকার তাঁর শরীরি ভাষাতেই দশ গোল দিয়েছেন বুদ্ধবাবুকে। কেন?
তাঁদের কথায়, মানিক সরকার এমনিতে পায়জামা-পাঞ্জাবীর সঙ্গে চামড়ার চটি পরেন। কিন্তু বৃহস্পতিবার পরেছিলেন স্নিকার্স। এক বাম যুব নেতার কথায়, "ব্যারিকেড ভাঙার জেদ নিয়ে গিয়েছিলেন মানিকদা। কোনও শৌখিনতা ছিল না।"
বৃহস্পতিবার প্রথম নয়। মানিক সরকার গত মাসেও ত্রিপুরার জেলায়-জেলায় চষে বেরিয়েছেন। ভাঙা পার্টি অফিসে নিজে গিয়েছেন। কর্মীদের সঙ্গে দেখা করেছেন। বুদ্ধবাবুকে এর কোনওটা করতেই দেখা যায়নি।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বুদ্ধবাবু বিরোধী আন্দোলনকে নেতৃত্ব দিতে পারেননি। যেভাবে পারেননি শেষ কয়েক বছর সরকারকে নেতৃত্ব দিতে।