
শেষ আপডেট: 13 August 2018 10:41
দল যখন তাঁকে বহিষ্কার করেছে, তখনই সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়ের বয়স আশি ছুঁই ছুঁই। সোমবার সেই সোমনাথবাবুর মৃত্যুর পর দলের রাজ্য কমিটির বৈঠক বাতিল করা নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্ব তো ছিলই। তার থেকেও ছাপিয়ে গেল পলিটব্যুরোর বিবৃতি!
সকাল সাড়ে আটটায় মৃত্যু হয়েছে সোমনাথবাবুর। বিকেল তিনটে নাগাদ পলিটব্যুরোর তরফে বিবৃতি প্রকাশ করে বলা হল, “লোকসভার প্রাক্তন স্পিকার এবং দশ বারের সাংসদ সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়ের মৃত্যুতে পলিটব্যুরো গভীর শোক প্রকাশ করছে।” এর পরেও দুই ছত্র লেখা হল সংসদীয় গণতন্ত্র রক্ষা ও খেটে খাওয়া মানুষের হয়ে লড়াইয়ে তাঁর অবদানের কথা বলার জন্য। কিন্তু একবারের জন্যও লেখা হল না ছ’দশকেরও বেশি সময় ধরে ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্ক্সবাদী)-র সদস্য ছিলেন সোমনাথবাবু।
পলিটব্যুরোর এই বিবৃতি নিয়ে এ দিন বাংলার সিপিএমের ভিতর তৈরি হলো জোর বিতর্ক। সূত্রের খবর আলিমুদ্দিন ত্থেকে ফোনও যায় একে গোপালন ভবনে। অনুরোধ করা হয় দ্রুত যেন পিবি তার বিবৃতি দেয়। কিন্তু দিল্লি সিপিএমের ঘুম ভাঙতে বেজে যায় বেলা তিনটে। বাংলা থেকে নির্বাচিত কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্যরা পিবি-র বিবৃতির অপেক্ষা না করেই ফেসবুকে পোস্ট করে দেন। কী লেখেন তাঁরা? কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য শ্রীদীপ ভট্টচার্য তাঁর ফেসবুক পোস্টে বর্ষীয়ান নেতা সম্পর্কে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করতে গিয়ে লেখেন “বাম, গণতান্ত্রিক ও ধর্মনিরপেক্ষ শক্তির পক্ষে তিনি সর্বদা বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করেছেন। আরও কয়েক কদম এগিয়ে এ বারই কেন্দ্রীয় কমিটিতে ঠাঁই পাওয়া বাঁকুড়ার অমিয় পাত্র লেখেন, “একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের মূল্যায়নের ভিত্তি হবে তাঁর সমগ্র জীবন। অংশ দিয়ে সমগ্রকে বোঝা যায় না।”