দ্য ওয়াল ব্যুরো: একেই কি বলে কমিউনিস্ট পার্টির শৃঙ্খলা?
সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়ের মৃত্যু প্রকাশ্যে এনে দিল সিপিএমের ভিতরকার বিশৃঙ্খলা। আলিমুদ্দিন স্ট্রিট থেকে একে গোপালন ভবনের দূরত্ব যতটা, তার চেয়েও বেশি ফারাক বর্ষীয়ান এই রাজনীতিকের মৃত্যুর পর পলিটব্যুরো আর পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যকমিটির শোক প্রস্তাবে।
সোমনাথবাবুর মৃত্যুর খবর ছড়াতেই সকাল থেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় শোক জ্ঞাপনের ঝড় তুলে দেন বামকর্মীরা। বহিষ্কৃত সিপিএম নেতাকে 'কমরেড' বলেই সম্বোধন করেন তাঁরা। রেওয়াজ মেনে জানানো হয় 'লাল সেলাম'ও। দ্বিধাদ্বন্দ ঘুঁচিয়ে রাজ্য কমিটির জরুরি বৈঠকও বাতিল করে দেয় আলিমুদ্দিন।আর না করে উপায়ও ছিল না। কারণ অধিকাংশ রাজ্যকমিটির সদস্যই সোমনাথবাবুর মৃত্যুর খবর শুনে রাজ্য দফতরে আসার বদলে চলে যান হাসপাতালে।
দুপুর তিনটের সময় শোক জানিয়ে বিবৃতি দেয় পলিটব্যুরো। আর এরপরই সামনে আসে কমিউনিস্ট শৃঙ্খলার ছালবাঁকল উঠে যাওয়া অবস্থা। পলিটব্যুরোর বিবৃতিতে কোথাও 'কমরেড' শব্দের উল্লেখ নেই। এমনকী উল্লেখ নেই তিনি দীর্ঘ ছ'দশক ধরে দলের সদস্য ছিলেন। ছিলেন সিপিএমের কেন্দ্রীয় কমিটির নেতা এবং দীর্ঘদিনের সংসদীয় দলের নেতা। আর রাজ্যকমিটির বিবৃতিতে সোমনাথবাবুকে সম্বোধন করা হয় 'কমরেড' বলেই। সেই সঙ্গে ৭১সালে বর্ধমানের আসন থেকে লোকসভায় জেতা থেকে শুরু করে যাদবপুর এবং পরবর্তীকালে বোলপুর থেকে সাংসদ নির্বাচিত করার কথা। প্রাক্তন কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য বলেও রাজ্য কমিটির বিবৃতিতে লেখেন বাংলার নেতারা। কিন্তু ৮৪সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে পরাজিত হওয়ার কথা অবশ্য এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে কৌশলেই।
আর পলিটব্যুরোর এই 'কমরেড' না বলা নিয়ে ফাঁপরে পড়েন কর্মীরা। সোমনাথবাবুকে বহিষ্কারের পর কমরেড বলা যাবে কিনা তা নিয়ে শুরু হয়ে যায় চর্চা। শীর্ষ নেতারা এমনকী কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্যরাও পলিটব্যুরোর বিবৃতির সমালোচনা শুরু করে দেন। বাম রাজনীতির সমালোচকদের মতে, মুখে গণতান্ত্রিক কেন্দ্রিকতার নীতিতে শৃঙ্খলার বুলি আওড়ে সিপিএম নেতারাই এ দিন দলের বিশৃঙ্খল অবস্থা প্রকাশ্যে এনে দিলেন।