দ্য ওয়াল ব্যুরো: লকডাউনের জেরে এবার ক্ষতির মুখে পূর্ব মেদিনীপুরের পানচাষিরা। এই সময় বিভিন্ন খাদ্যপণ্য ও কৃষিজাত পণ্য বাজারে বিক্রির উপরে কোনও রকম নিষেধাজ্ঞা নেই যদিও অত্যাবশ্যকীয় না হওয়ায় পানের ক্ষেত্রে এই ছাড় নেই। তাই পানচাষি থেকে পান ব্যবসায়ী – সকলেই সমস্যায়।
১৪ এপ্রিল শেষ হচ্ছে দেশজোড়া একুশ দিনের লকডাউন। তারপরে স্লোডাউনের ইঙ্গিত দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তখন কী হবে তা নিয়েও এখন থেকেই উদ্বেগে পূর্ব মেদিনীপুরের কয়েক হাজার পানচাষি। রাজ্যে পানের জোগানের প্রায় ৯০ শতাংশ এই জেলা থেকেই হয় বলে তাঁরা জনিয়েছেন। এ রাজ্যের বিভিন্ন জেলাতে পান রফতানি হয় পূর্ব মেদিনীপুর থেকে। তা ছাড়া দেশের বিভিন্ন রাজ্যেও পান রফতানি হয় এই জেলা থেকে।
লকডাউনের ফলে এই জেলার সমস্ত পানমান্ডি বন্ধ। তাই চাষিরা তাঁদের উৎপাদিত পান পাঠাতে পারছে না কোনও মান্ডিতে। গাছের পাতা এখন গাছেই নষ্ট হচ্ছে। অনেক চাষি আবার গাছ বাঁচাতে পাতা তুলে ফেলে দিচ্ছেন। অনেকে পাতা তুলে ঘরের মধ্যে সাজিয়ে বোতল থেকে মাঝেমধ্যে ঠান্ডা জল দিচ্ছেন যাতে পাতা সতেজ থাকে। তাঁরা এই চেষ্টা করছেন যাতে লকডাউন উঠলে ওই সব পানপাতা কোনও ভাবে বাজারে পাঠানো যায়। তাতে কিছু টাকা অন্তত পাওয়া যাবে।
বেশির ভাগ চাষিই গাছে পান পাতা রেখে দেন মার্চ ও এপ্রিল মাসে তা বাজারে বিক্রি করার জন্য কারণ বছরের এই সময়েই পানের দাম আকাশ ছোঁয়া হয়। এই দু’মাস পান বিক্রি করে বাড়তি যে টাকা আয় হয় তা দিয়ে সংসারে কিছুটা স্বাচ্ছন্দ্য আসে। ঠিক এই সময় লকডাউন হওয়ায় তাই একটু বেশি সমস্যায় পড়েছেন চাষিরা। এখন তাই তাঁদের মাথায় হাত। বাড়তি আয় করা দূরে থাক এখন সংসার চালানোই তাঁদের কাছে চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
অনেক ভাগচাষিই আজকাল বিভিন্ন ব্যাঙ্ক থেকে ঋণ নিয়ে পান চাষ করেন। পান বিক্রি করতে না পারলে ঋণ কী ভাবে পরিশোধ করবেন এখন সেটাই তাঁদের চিন্তার কারণ। কোনও কারণে লকডাউনের সময়সীমা বেড়ে গেলে তখন সংকট আর তীব্র হবে বলে তাঁরা আশঙ্কা করছেন। এপ্রিল মাসের ইএমআই দেওয়া এখন তাঁদের কাছে চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিভিন্ন ধরনের ঋণের ক্ষেত্রে মোরেটোরিয়াম ঘোষণা করা হলেও পান চাষের জন্য যাঁরা ঋণ করেছেন তাঁরা এখন ভাবছেন ইএমআই দেওয়া নিয়ে। যাঁরা ব্যাঙ্ক থেকে ঋণ না পেয়ে মহাজনের থেকে নিয়েছেন তাঁদের চিন্তা আরও বেশি।