দ্য ওয়াল ব্যুরো: ফের অঙ্গদানের নজির শহর কলকাতায়। নতুন বছরে এই নিয়ে তিনবার।
পথ দুর্ঘটনায় গুরুতর ভাবে আহত হয়েছিলেন হাওড়া জেলার বালির বাসিন্দা কল্যাণ কুমার রায়চৌধুরী। গত সোমবার হুগলির সিমলাগড়ে ঘটে এই দুর্ঘটনা। জানা গিয়েছে, দেশের বাড়ির একটি অনুষ্ঠানে গিয়েছিলেন কল্যাণবাবু। সেখানেই জিটি রোডের উপর সাইকেল চালানোর সময় লরির ধাক্কায় মারাত্মক চোট পান তিনি। চিকিৎসাধীন ছিলেন কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে। মঙ্গলবার সেখানেই কল্যাণবাবুর ব্রেনডেথের কথা ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা।
এরপর কল্যাণবাবুর অঙ্গদানের আবেদন করা হয় পরিবারের কাছে। শোকস্তব্ধ হলেও অঙ্গদানের সিদ্ধান্ত নিতে দেরি করেনি পরিবার। বুধবার সম্পন্ন হয় অঙ্গদানের প্রক্রিয়া। কল্যাণ কুমার রায়চৌধুরীর ছোট মেয়ে আদৃতা জানিয়েছেন, "পরিবারের সকলেই বাবার অঙ্গদানের সিদ্ধান্তে একমত। এ নিয়ে কোনও দ্বিধা নেই। বাবা নিজেও এমন মানসিকতারই মানুষ ছিলেন। আমাদের পরিবারে অন্য কারও সঙ্গে এমনটা ঘটলে বাবাও অঙ্গদানে রাজিই হতেন।" কল্যাণবাবুর দুটি কিডনি এবং লিভার দান করা হয়েছে। জানা গিয়েছে, ৩২ বছরের সাহানা খাতুনকে দেওয়া হয়েছে কল্যাণবাবুর লিভার।
ক'দিন আগেই বাইক দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে কাঁচড়াপাড়ার বাসিন্দা সুজয় কর্মকারের। ডাক্তাররা ‘ব্রেন ডেথ’ ঘোষণা করার পরেই অঙ্গদানে রাজি হয়ে যায় বছর কুড়ির সুজয়ের পরিবার। তাঁর হার্ট, লিভার, দু’টি কিডনিতে জীবনের আলো দেখেছেন চারজন। কলকাতা মেডিক্যালে হৃৎপিণ্ড, অ্যাপোলোতে লিভার ও এসএসকেএমে দু’টি কিডনি দানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হ। এসএসকেএমের স্কিন ব্যাঙ্কে সুজয়ের ত্বক রাখা হয়েছে। তাঁর চোখ ও ত্বকও দান করা হবে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
এই ঘটনার কয়েকদিন আগে পূর্ব মেদিনীপুরের বাসিন্দা ৪৫ বছরের স্বপন হাজরার মৃত্যু হয় বাইক দুর্ঘটনায়। স্বপনের ব্রেনডেথের খবরে ভেঙে পড়ে পরিবার। এর পরেই চিকিৎসকরা অঙ্গদানের কথা বলেন পরিবারের সদস্যদের। আলোচনার পরে রাজি হন তাঁরা। স্বপনের লিভার পাঠানো হয় মুকুন্দপুরের মেডিকা হাসপাতালে। হার্ট, লিভার ও একটি কিডনি প্রতিস্থাপিত হয় এসএসকেএম-এরই তিন রোগীর দেহে। অন্য একটি কিডনি অন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়।