দ্য ওয়াল ব্যুরো: আগামী বুধবার করোনা পরিস্থিতি নিয়ে সর্বদল বৈঠক ডেকেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। কিন্তু ৮ এপ্রিলের ওই বৈঠকে তৃণমূল অংশগ্রহণ করবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন রাজ্যসভার সাংসদ ডেরেক ও'ব্রায়েন। যদিও কী কারণে বাংলার শাসকদল প্রধানমন্ত্রীর ডাকা ওই বৈঠকে থাকবে না তার কোনও ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
শনিবার সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রী প্রহ্লাদ যোশী এই বৈঠকের কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, লকডাউনের নিয়ম মেনে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে হবে ওই বৈঠক। যোশী আরও বলেছেন, সংশ্লিষ্ট দলের সংসদীয় নেতা ছাড়াও আরও পাঁচজন নেতা যোগ দিতে পারেন ওই বৈঠকে।
প্রসঙ্গত, মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর দ্বিতীয় ভিডিও কনফারেন্সে যোগ দেননি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মুখ্যসচিব রাজীব সিনহা বাংলার হয়ে প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন।
প্রধানমন্ত্রীর ডাকা বৈঠকে তৃণমূলের না যাওয়ার সিদ্ধান্তে ব্যাপক আক্রমণ শানিয়েছে বিজেপি। রাজ্য বিজেপির এক মুখপাত্র বলেন, "বাংলায় যখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সর্বদল বৈঠক ডাকলেন, আমরা কিন্তু গেছিলাম। কারণ আমরা মনে করি তৃণমূলের সঙ্গে রাজনৈতিক লড়াইয়ের জন্য অনেক সময় পড়ে রয়েছে। এখন সেটা করার সময় নয়। কিন্তু তৃণমূল তো রাজনীতি ছাড়া এক পা চলতে পারে না। দেশের মানুষ, রাজ্যের মানুষ দেখুক তৃণমূলের চরিত্রটা কী!"
করোনা সংক্রমণ শুরুর দিকে রাজনৈতিক বিরোধিতা তেমন না হলেও ইদানীং সরকারের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক বিরোধিতার সুর চড়াতে শুরু করেছে বিরোধী দলগুলি। দু’দিন আগে কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকের পর অন্তর্বর্তী কংগ্রেস সভাপতি সনিয়া গান্ধী বলেছিলেন, কোনওরকম পরিকল্পনা ছাড়াই কেন্দ্র লকডাউন ঘোষণা করে দিয়েছে। ফলে দুর্ভোগের মধ্যে পড়তে হয়েছে ভিনরাজ্যে কাজে যাওয়া অসংখ্য শ্রমিককে। তার পাল্টা আবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলেছিলেন, কংগ্রেস সংকীর্ণ রাজনীতি করছে। এদিন আবার রাহুল গান্ধী তথ্য দিয়ে দাবি করেছেন, ভারতের তুলনায় পাকিস্তানে বেশি মানুষের কোভিড-১৯ টেস্ট হচ্ছে।
পর্যবেক্ষকদের মতে, এই আবহে প্রধানমন্ত্রী হয়তো রাজনৈতিক ঐকমত্য গড়ে তুলতেই এই বৈঠক ডেকেছেন। যাতে সবার পরামর্শ নিয়ে একটা রাস্তা বের করা যায়। একইসঙ্গে লকডাউন ওঠার পর কী করা যাবে তা নিয়েও প্রধানমন্ত্রী রাজনৈতিক দলগুলির নেতাদের থেকে পরামর্শ চাইতে পারেন মোদী। কিন্তু তাতে অংশগ্রহণ করছে না তৃণমূল।