দ্য ওয়াল ব্যুরো: "গাঁজা খেত সুশান্ত। ওকে থামাতে চেয়েছিলাম। আমার তরফ থেকে এই একটা ব্যাপারেই সুশান্তকে নিয়ন্ত্রণ করতে চেয়েছিলাম।" বৃহস্পতিবার এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের সাক্ষাৎকারে এমনটাই দাবি করেছেন প্রয়াত অভিনেতার বান্ধবী রিয়া চক্রবর্তী।
সুশান্ত সিং রাজপুতের মৃত্যুর তদন্তে মাদক যোগ পেয়েছিল ইডি। তাদের আবেদনে ইতিমধ্যেই এ ব্যাপারে তদন্ত শুরু করেছে নারকোটিক্স কন্ট্রোল ব্যুরো। এই নিয়ে গত কয়েকদিন ধরে যথেষ্ট শোরগোল চলছে। তার মধ্যেই এমন বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন রিয়া। অভিনেত্রী আরও বলেছেন, "আমি জীবনে কোনও দিন কোনও ড্রাগ নিইনি। রক্ত পরীক্ষার জন্য আমি প্রস্তুত।" গতকাল ঠিক এমনটাই বলেছিলেন রিয়ার আইনজীবী সতীশ মানশিন্ডেও।
যদিও এর মধ্যেই রিয়ার বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেছে নারকোটিক্স ব্যুরো। অন্যদিকে ইডি তথা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট-এর তদন্তকারী আধিকারিকদের দাবি রিয়ার ফোন থেকে যে হোয়াটস অ্যাপ চ্যাটের অংশ উদ্ধার হয়েছে তাতে দেখা গিয়েছে, ড্রাগ নিয়ে আলোচনা করেছেন অভিনেত্রী। তবে রিয়ার দাবি, তার বক্তব্যকে বিকৃত করা হয়েছে।
এছাড়াও আজ রিয়া বলেছেন, "আমার হোয়াটস অ্যাপ চ্যাটের তথ্য কেবল তদন্তকারী সংস্থাকে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সম্প্রতি টেলিভিশনে আমার বন্ধুদের নম্বর দেখানো হচ্ছে। এরপরেই ঠিক করলাম যে এবার আমায় মুখ খুলতে হবে। এক তরফের এইসব কথাবার্তা আমার পরিবারকে কার্যত ধ্বংস করে দিচ্ছে।"
সুশান্ত সিং রাজপুতের মৃত্যুর পর থেকে বিতর্ক যেন থামছেই না। প্রতিদিন নতুন করে মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে নানা তথ্য। অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগে রহস্য ক্রমশ বেড়েছে। মুম্বই এবং বিহার পুলিশের পর আপাতত অভিনেতার রহস্যজনক মৃত্যুর তদন্ত করছে সিবিআই, ইডি এবং নারকোটিক্স কন্ট্রোল ব্যুরো।
সুশান্তের মৃত্যুর পর থেকে বারবারই অভিনেতার মানসিক অসুস্থতার কথা উঠে এসেছে। বিভিন্ন সূত্রের তরফে বারংবার বলা হয়েছে যে সুশান্ত মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন। সেই জন্য চিকিৎসা চলছিল তাঁর। যদিও রাজপুত পরিবারের তরফে দাবি করা হয়েছে সুশান্তের কোনও রকম মানসিক অবসাদ এবং তাঁর চিকিৎসার কথা তারা জানতেন না। এমনকি সুশান্তের প্রাক্তন বান্ধবী অঙ্কিতা লোখান্ডেও একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন যে সুশান্তের মতো প্রাণবন্ত ছেলে মানসিক অবসাদে ভুগে আত্মহত্যা করতেই পারেন না।
এই প্রসঙ্গে এদিনের সাক্ষাৎকারে রিয়া বলেছেন যে সুশান্তের পরিবার তাঁর মানসিক অবসাদের ব্যাপারে জানতো। এমনকি রিয়া দাবি করেছেন যে ৮ জুন তিনি বান্দ্রার ফ্ল্যাট ছেড়ে স্বেচ্ছায় যাননি। সুশান্তই তাঁকে চলে যেতে বলেছিলেন। এছাড়াও রিয়া বলেছেন 'মিটু' অভিযোগ, ভাল ছবির পরেও অ্যাওয়ার্ড না পাওয়া এইসব কিছুই মানসিক ভাবে সুশান্তকে খুব আঘাত করেছিল। অবসাদগ্রস্ত হয়ে পড়েছিলেন অভিনেতা।