দ্য ওয়াল ব্যুরো: বুধবার ছিল সিবিআই-রাজীব কুমার মামলার শুনানি। বিকেল সাড়ে তিনটের সময় দেশের শীর্ষ আদালতে এই মামলার শুনানির পর প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ-এর ডিভিশন বেঞ্চ নির্দেশ দিয়েছে, দু'সপ্তাহের মধ্যে রাজীব কুমারের বিরুদ্ধে প্রমাণ দিক কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিবিআই। আগামী ২৬ মার্চ ফের এই মামলার শুনানি হবে হবে বলে জানিয়েছে ডিভিশন বেঞ্চ।
আদালতে সিবিআই অভিযোগ করেছিল, স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন টিম তথা এসআইটি-র প্রধান থাকার সময় চিটফান্ড তদন্তে উদ্ধার হওয়া প্রমাণ লোপাট করেছিলেন। সিবিআইয়ের প্রধান অভিযোগ ছিল, উদ্ধার হওয়া মোবাইল এবং ল্যাপটপ থেকে থেকে সমস্ত রেকর্ড সরিয়ে দিয়েছিল এসআইটি। এরপর এ দিন আদালত সিবিআই-কে নির্দেশ দিয়েছে, যে অভিযোগ করা হচ্ছে রাজীব কুমারের বিরুদ্ধে তার প্রমাণ দিতে। পরবর্তী শুনানির আগে হলফনামা দিয়ে সেই প্রমাণ আদালতকে জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
গত ৩ ফেব্রুয়ারি সন্ধে বেলা সিবিআই-এর ডিএসপি তথাগত বর্ধনের নেতৃত্বে একঝঁক গোয়েন্দা যান লাউডন স্ট্রিটে। মহানগরের রাস্তায় খণ্ডযুদ্ধ বেঁধে গিয়েছিল সিবিআই বনাম কলকাতা পুলিশের। সেই সময় কলকাতার নগরপাল ছিলেন রাজীব কুমার। পরিস্থিতি এমন জায়গায় যে, বাংলার মুখ্যমন্ত্রী কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা এজেন্সির হাত থেকে 'ফোর্সকে প্রোটেক্ট করতে' ধর্ণায় বসে পড়েন। পরের দিনই সুপ্রিম কোর্টে যায় সিবিআই। এরপর অনেক জল গড়ায় শীর্ষ আদালতে। ৫ ফেব্রুয়ারির শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট বলে, রাজীব কুমারকে গ্রেফতার করা যাবে না কিন্তু সিবিআই ডাকলে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদে মুখোমুখি হতে হবে।
এরপর টানা ৫ দিন মেঘালয়ের রাজধানী শিলং-এ মোট ৩৬ ঘণ্টা রাজীব কুমারকে জেরা করেন সিবিআই আধিকারিকরা। কলকাতার সদ্য প্রাক্তন পুলিশ কমিশনারের মুখোমুখি বসানো হয় তৃণমূলের প্রাক্তন রাজ্যসভার সাংসদ কুণাল ঘোষকেও। এরপর সিবিআই হলফনামা জমা দেয় শীর্ষ আদালতে। হলফনামা জমা দেওয়া হয় হয় রাজীব কুমার এবং রাজ্যের তরফেও। এরপর সাপ্লিমেন্টরি এফিডেভিটও জমা দেয় সিবিআই।