
শেষ আপডেট: 18 May 2020 05:24
দেশের করোনা সংক্রমণের নিরিখে মধ্যপ্রদেশ রয়েছে তৃতীয় স্থানে। তারমধ্যে আবার ইন্দোরের অবস্থা আরও ভয়াবহ। গোটা ইন্দোর কর্পোরেশন এলাকাকেই কন্টেইনমেন্ট জোন হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।
মূলত মালদহ, মুর্শিদাবাদ ও দুই দিনাজপুরের কয়েকশো নির্মাণ শ্রমিক আটকে রয়েছেন ইন্দোরে। তাঁরাও বাড়ি ফেরার জন্য উতলা হয়ে উঠেছেন। একে লকডাউনের ফলে কাজ নেই। তার উপর বাইরে সংক্রমণ ক্রমশ তীব্র হচ্ছে ইন্দোরে। বাংলার সেই পরিযায়ী শ্রমিকদের পরিবারও গভীর উৎকণ্ঠার মধ্যে রয়েছেন।
রবিবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চিঠি লেখেন শিবরাজ। সোমবার সকাল সওয়া দশটা পর্যন্ত এ ব্যাপারে নবান্নের তরফে কোনও বিবৃতি দেওয়া হয়নি।
এমনিতে ভিন রাজ্যে আটকে থাকা বাংলার শ্রমিকদের ফেরানো নিয়ে বিস্তর রাজনৈতিক চাপানউতোর হয়েছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি লিখে বলেন, রাজ্য সরকার শ্রমিকদের ফেরানোর বন্দোবস্ত করুক। নাহলে শ্রমিক, মজুরদের প্রতি চূড়ান্ত অবিচার করা হবে। তা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর ভিডিও কনফারেন্সেও ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন মমতা। জানা যায়, অমিত শাহের প্রতি এতটাই রেগে গিয়েছিলেন দিদি যে, ভিডিও কনফারেন্সের মধ্যেই টেবিলে রাখা ফাইলে চাপড় মেরে বসেন!
বিজেপি-সহ বিরোধীরা অভিযোগ করে, বাইরে রাজ্যে আটকা পড়া শ্রমিকদের ফেরাতে নবান্নের কোনও গরজই নেই। রেলমন্ত্রক জানায়, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর চিঠির পর নবান্ন ট্রেন চেয়েছে রেল ভবনের কাছে। রেলমন্ত্রকের বিবৃতিকে ভিত্তিহীন এবং ভুল বলে দাবি করে রাজ্যের স্বরাষ্ট্র দফতর।
যদিও তারপর বিভিন্ন রাজ্য থেকে বাংলার বিভিন্ন জেলায় শ্রমিক স্পেশাল ট্রেন ফিরতে শুরু করে। এমনকি সোমবার বাংলাদেশ থেকেও পশ্চিমবঙ্গের ১৬৯ জন নাগরিকের ফেরার কথা। এখন দেখার মধ্যপ্রদেশ থেকে বাংলার শ্রমিকদের ফেরাতে কী পদক্ষেপ করে নবান্ন।