
শেষ আপডেট: 4 January 2019 17:08
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কিছু দিন আগেই সিবিআই প্রধান অলোক ভার্মাকে ছুটিতে পাঠিয়ে দিয়েছিল নরেন্দ্র মোদী সরকার। তা নিয়ে সর্বোচ্চ আদালত পর্যন্ত জল গড়িয়েছে। যদিও তাতে কিছুই সুবিধা করতে পারেননি ভার্মা। শুক্রবার সিবিআইয়ে ফের রদবদল করল নরেন্দ্র মোদী সরকার। এবং তাৎপর্যপূর্ণই ভাবে সিবিআইয়ের স্পেশাল ডিরেক্টর রাকেশ আস্থানার বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলায় প্রধান তদন্তকারী অফিসার তথা সিবিআইয়ের ডেপুটি ডিরেক্টর ভি মুরুগেসানকে অন্য দায়িত্ব দেওয়া হল। কয়লা খনি বন্টন নিয়ে দুর্নীতি মামলার দায়িত্বে সরিয়ে দেওয়া হল মুরুগেসানকে।
আপাত ভাবে এই ছোট রদবদলের মধ্যেই বড় ধরনের পরিকল্পনা নিহিত রয়েছে বলে মনে করছেন অনেকে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে সারদা, রোজভ্যালি সহ চিটফাণ্ড কেলেঙ্কারি নিয়ে তদন্তের দায়িত্বে ছিলেন রাকেশ আস্থানা। যিনি গুজরাত ক্যাডারের আইপিএস অফিসার এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর স্নেহভাজন বলেই দিল্লির ক্ষমতার করিডরে পরিচিত। একটি সূত্রের মতে, যে হেতু আস্থানার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি। সেই যুক্তিতে তাঁকে সিবিআই ডিরেক্টর পদে বসাতে পারে মোদী সরকার।
প্রসঙ্গত, সিবিআই ডিরেক্টর অলোক ভার্মাকে ছুটিতে পাঠানোর পর এখন ডিরেক্টর পদের সাময়িক দায়িত্বে রয়েছেন নাগেশ্বর রাও। কিন্তু ৩১ জানুয়ারি অলোক ভার্মার চাকরির মেয়াদ শেষ হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে সিবিআই ডিরেক্টর পদের জন্য অন্যতম দাবিদার হলেন, স্পেশাল ডিরেক্টর রাকেশ আস্থানা। এবং আস্থানার সামনে বাধা বলতে শুধু তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতি মামলা।
উল্লেখযোগ্য হল, মুরুগেসানের নেতৃত্বে আস্থানার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ খতিয়ে দেখতে সিবিআইয়ের তদন্ত টিমে যে অধস্তন অফিসাররা ছিলেন তাঁদের নভেন্বরেই বদলি করে দেওয়া হয়েছিল। শুক্রবার প্রায় চুপিসারে মুরুগেসানকেও সরানো হল। সিবিআইয়ের অভ্যন্তরীণ নির্দেশে বলা হয়েছে, এসি হেড কোয়ার্টার-ওয়ান জোনের অতিরিক্ত দায়িত্ব ছিল মুরুগেসানের উপর। তাঁর উপর এ জন্য খুব চাপ পড়ছিল। তাই তাঁকে অব্যহতি দেওয়া হল। সিবিআই শীর্ষ সূত্রের বক্তব্য, কয়লা খনি বন্টন কেলেঙ্কারির তদন্তে এ বার গতি আনার চেষ্টা করবেন মুরুগেসান।
ঘটনাচক্রে, সিবিআইয়ের এসি হেড কোয়ার্টার্স ওয়ান জোনের অধীনেই ছিল রাকেশ আস্থানার বিরুদ্ধে তদন্তের দায়িত্ব। ওই জোনের নতুন দায়িত্ব দেওয়া হল লখনউ জোনের দায়িত্বে থাকা ডেপুটি ডিরেক্টর জি কে গোস্বামী। মুরুগেসানের পাশাপাশি এ দিন সরিয়ে দেওয়া হয়েছে সিবিআইয়ের দিল্লি জোনের দুর্নীতি দমন শাখার ডেপুটি ডিরেক্টর বিনীত বিনায়ককেও। সেই স্থানে আনা হয়েছে অতিরিক্ত ডিরেক্টর প্রবীণ সিনহাকে।
কিন্তু এ ক্ষেত্রেও প্যাঁচ রয়েছে বলে জানিয়েছে সিবিআইয়ের একটি সূত্র। অভিযোগ হল, মইন কুরেশি মামলায় সিবিআইয়ের দিল্লি জোনের দুর্নীতি দমন শাখার এক অফিসার তদন্ত সূত্রে হায়দরাবাদের এক ব্যবসায়ীকে জেরা করতে ডেকেছিলেন। আস্থানা ওই ব্যবসায়ীদের থেকে ২ কোটি টাকা ঘুষ নিয়েছেন বলে অভিযোগ।
আস্থানার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠার পর এক সময়ে স্বাভাবিক কারণেই খুশি হয়েছিলেন তৃণমূলের একাংশ নেতা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত যদি আস্থানাই সিবিআই ডিরেক্টর পদে বসেন, তা হলে তাঁদের উদ্বেগ বাড়তে পারে বইকি। তবে কংগ্রেসের এক প্রবীণ নেতা তথা আইনজীবী শুক্রবার এ প্রসঙ্গে বলেন, রাকেশ আস্থানাকে সিবিআই ডিরেক্টর করা মোদী সরকারের পক্ষে সহজ হবে না। কংগ্রেস তাতে তীব্র আপত্তি জানাবে। সিবিআই প্রধান নিয়োগের জন্য কমিটি রয়েছে। ওই কমিটিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ছাড়া রয়েছেন লোকসভায় বিরোধী দলনেতা তথা বর্ষীয়াণ কংগ্রেস নেতা মল্লিকার্জুন খার্গে এবং সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ। তাঁর কথায়, এটা ঠিকই আস্থানার বিরুদ্ধে দুর্নীতি প্রমাণ হয়নি। কিন্তু যাঁর বিরুদ্ধে প্রাক্তন সিবিআই প্রধান দুর্নীতির অভিযোগ এনেছিলেন, তাঁকে কোনও ভাবেই সন্দেহের উর্ধ্বে রাখা যায় না।