দ্য ওয়াল ব্যুরো: সারা দেশে ভোট বিপর্যয়ের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠক ডেকেছিলেন কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী। সেই বৈঠকে দলের সভাপতি পদ ছাড়তে চেয়েছিলেন রাহুল। কিন্তু ওয়ার্কিং কমিটির সব সদস্য রাহুলের আবেদন খারিজ করে দেন। কিন্তু চার ঘণ্টার ওই পোস্ট মর্টেম বৈঠকে নাম না করে বেশ কিছু কংগ্রেস নেতাকে রাহুল কড়া কথা শুনিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।
একটি সর্বভারতীয় সংবাদ মাধ্যমের দাবি, যে কংগ্রেস নেতারা এ বার ভোটে নিজেদের ছেলে মেয়েকে প্রার্থী করেছিলেন, তাঁদের ভর্ৎসনা করেছেন রাহুল। কংগ্রেস সভাপতি বলেছেন, বেশ কিছু রাজ্যে, বেশ কিছু নেতা তাঁদের ছেলে-মেয়েদের প্রার্থী হিসেবে পুশ করেছেন। এ বার ভোটে প্রার্থী হয়েছিলেন রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রী তথা বর্ষীয়ান কংগ্রেস নেতা অশোক গেহলটের ছেলে বৈভব গেহলট। যোধপুর কেন্দ্রে প্রায় আড়াই লক্ষ ভোটে পরাজিত হয়েছেন তিনি। এরকম আরও নেতার ছেলে মেয়েরা ভোটে দাঁড়িয়ে হেরেছেন। ওই সংবাদ মাধ্যমের দাবি, কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকে রাহুল নাকি বলেছেন, হিন্দি বলয়ের তিন রাজ্যে কংগ্রেস ছ’মাস আগে ক্ষমতায় এল। এসে প্রতিশ্রুতি মতো কৃষক দের কর মুকুব করল। তার পরেও কংগ্রেস হারল। কারণ এই প্রার্থী করাকে সাধারণ ভোটাররা ভাল ভাবে নেননি। তাঁর কথায়, সাধারণ মানুষ ভেবেছেন কংগ্রেস একটা সার্থসিদ্ধি করার পার্টি। যদিও কমলনাথের ছেলে নকুল নাথ, পি চিদম্বরমের ছেলে কার্তি চিদম্বরম ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জিতেছেন।
চার ঘণ্টার ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকের শুরুতেই রাহুল পদত্যাগ করতে চান বলে কংগ্রেস সূত্রে খবর। চিদম্বরমের মতো বর্ষীয়ান নেতা পর্যন্ত রাহুলকে অনুরোধ করেন এমন সিদ্ধান্ত না নিতে। বিপর্যয়ের বিশ্লেষণ করতে বসে কেঁদেও ফেলেন প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী। ওই সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, রাহুল পদত্যাগের ইচ্ছে প্রকাশ করার পর এক সদস্য বলেন, আপনি ছাড়া এই পরিস্থিতিতে দলের দায়িত্ব কে নেবেন? অন্য একজন নাকি প্রিয়ঙ্কা গান্ধী বঢড়ার নাম বলেন। তখন রাহুল বলেন, “প্লিজ! এর মধ্যে আমার বোনকে টানবেন না।” সনিয়া-পুত্র নাকি এ-ও বলেন, “গান্ধী পরিবার থেকেই সভাপতি হতে হবে এমন কোনও মানে নেই।” এই প্রসঙ্গে সীতারাম কেশরির উদাহরণও টানেন কংগ্রেস সভাপতি।