দ্য ওয়াল ব্যুরো: মাত্র পাঁচ মাস আগের ঘটনা। ১১ ডিসেম্বর, ২০১৮। সে দিন সন্ধ্যের কথা মনে আছে! হিন্দিবলয়ের তিন রাজ্য মধ্যপ্রদেশ, রাজস্থান ও ছত্তীসগড়ের ভোটে সে দিন কংগ্রেসের কাছে ডাহা হেরেছে বিজেপি। তার পর দলের সদর দফতরে সাংবাদিক বৈঠক করতে বসেছেন কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী।
একবারও মনে হয়েছিল কি রাহুল গান্ধী ব্যর্থ নেতা?
তাও ছেড়ে দিন। দেড় বছর আগে ছিল গুজরাতে ভোট। সে বার নরেন্দ্র মোদীর ঘাড়ের কাছে যখন নিঃশ্বাস ফেলল কংগ্রেস, তখনও কি মনে হয়েছিল? বা কর্ণাটকে নির্বাচনের বিজেপি হেরে যাওয়ার পর! বরং মোদী বিরোধী শিবিরের অনেকেই তারিফ করতে শুরু করে দিয়েছিলেন রাহুলের। কেউ কেউ বা বলতে শুরু করেছিলেন, নতুন রাহুলকে আবিষ্কার করেছেন তাঁরা।
অথচ উনিশের ভোটে সেই রাহুলই ফের ফেল করলেন। চোদ্দর ভোটে গোটা দেশে মাত্র ৪৪ টি আসনে জিতেছিল কংগ্রেস। এ বার পেল মাত্র ৫২টি আসন। এমনকী যে রাজস্থান, ছত্তীসগড়, মধ্যপ্রদেশে পাঁচ মাস আগে সরকার গড়েছে তারা সেখানেও ভরাডুবি হল।
কেন হল এমন?
অস্বস্তি নিয়ে রাহুল গান্ধী কিন্তু এ দিন ঘরে বসে থাকেনি। বরং কংগ্রেস সদর দফতরে এসে সাংবাদিক বৈঠক করেছেন। যদিও বলেছেন, কেন এমন হল, তা এখনই বলা সম্ভব নয়। কংগ্রেসে আত্মমন্থন জরুরি। তা ছাড়া দলের ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকেও এ ব্যাপারে আলোচনা হবে। পরে কংগ্রেস সূত্রে জানা যায়, ব্যর্থতার দায় নিয়ে কংগ্রেস সভাপতির পদও ছেড়ে দিতে চেয়েছেন রাহুল।
তবু প্রশ্ন থেকে যায়, কেন বিপর্যয় হল কংগ্রেসের?
দলীয় নেতাদের একাংশ এবং রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের অনেকেই মনে করছেন, ব্যর্থতা আসলে রাহুলেরই। পাঁচ রাজ্যের ভোটে বিজেপি-র ভরাডুবির পর এই ধারনাই তৈরি হয়েছিল, মোদীর বিরুদ্ধে সম্মুখ সমরে তিনি প্রস্তুত। প্রধানমন্ত্রী পদের দাবিদার হয়ে উঠবেন তিনি। ৫৬ ইঞ্চি ছাতির বিরুদ্ধে মজবুত নেতা হিসাবে অবতীর্ণ হবেন লড়াইয়ে। অথচ দেখা গেল, সেই রাহুল গান্ধীই প্রধানমন্ত্রী পদের দাবি ছেড়ে দিলেন। শরদ পওয়ার, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, চন্দ্রবাবু নায়ডুদের পাশে নিয়ে বললেন, ও ব্যাপারে ভোটের পর ভাবা যাবে। বিরোধী ঐক্যও আশু প্রয়োজন।
কংগ্রেস নেতাদের মতে, ভুল হয়েছিল সেখানেই। মানুষ স্থায়িত্বের পক্ষে রায় দিয়েছে। অনিশ্চিত নেতৃত্বের পক্ষে নয়। অথচ দুর্ভাগ্যের বিষয় হল, যাদের নিয়ে ঐক্য দেখাতে গিয়েছিলেন রাহুল তাঁরা কেউ পাশে থাকলেন না। নিজের নিজের রাজ্যে কংগ্রেসের সঙ্গে আসন সমঝোতা করলেন না। কংগ্রেসের আমও গেল, ছালাও গেল।
পর্যবেক্ষকদের মতে, রাহুলের ন্যায় প্রকল্পেও ভোটের চিড়ে ভেজেনি। ক্ষমতায় এলে বছরে দেশের সব গরিব পরিবার পিছু ৭২ হাজার টাকা করে দেওয়ার অঙ্গীকার করেছিল কংগ্রেস। কিন্তু যারা স্থায়িত্বের লক্ষণ দেখাতে পারছে না, তারা প্রকল্পের রূপায়ণ করবে কী ভাবে?
এর পাশাপাশি রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ, ছত্তীসগড়, কর্ণাটক, গুজরাতে কংগ্রেস নেতৃত্বের ব্যর্থতা রয়েছেই। যেখানে মাত্র কদিন আগে কমলনাথ-অশোক গহলৌতরা সরকার গঠন করলেন সেখানে বলার মতো আসনই পেলেন না, হতে পারে?
বৃহত্তর দৃষ্টিতে সেই দায়ও নিতে হবে রাহুলকে। অথচ বাস্তব হল, রাহুলের নেতৃত্ব কিন্তু পছন্দ করতে শুরু করেছিলেন অনেক মানুষ। অনেক।