দ্য ওয়াল ব্যুরো: করোনা সংকটের মধ্যে সুপার সাইক্লোন উমফান যে বাংলা-ওড়িশার মানুষের উপর বিপর্যয় নামিয়ে এনেছে তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সেইসঙ্গে তিনি বলেন, সাইক্লোন বিধ্বস্ত মানুষের পাশে তিনি তাঁর সর্বশক্তি দিয়ে দিয়ে রয়েছেন।
রবিবার মন কি বাত অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। বেতার বক্তৃতায় মোদী বলেন, "করোনার বিরুদ্ধে যেমন লড়াই করছি তেমন এর সঙ্গেই যুক্ত হয়েছে সুপার সাইক্লোন উমফান। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে আমি বাংলা এবং ওড়িশায় গিয়েছিলাম। আমি সর্বশক্তি দিয়ে উমফান ঝড় বিধ্বস্ত মানুষের পাশে রয়েছি।"
বিধ্বংসী ঘূর্ণিঝড়ে বাংলা, ওড়িশার কৃষিতে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে বলেও এদিন উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তাছাড়া একাধিক রাজ্যে পঙ্গপালের হানা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেনি মোদী। পঙ্গপালের হানায় যে সমস্ত রাজ্য ক্ষতিগ্রস্ত তাদের কেন্দ্রীয় সরকার সাহায্য করবে বলেও জানান তিনি।
গত ২০ মে উপকূলবর্তী বাংলায় এবং ওড়িশার কিছু অংশে আছড়ে পড়েছিল ঘূর্ণিঝড়। তার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই রাজ্যে এসেছিলেন প্রধানমন্ত্রী। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়কে নিয়ে হেলিকপটারে দুই চব্বিশ পরগনা ঘুরে দেখেন মোদী। তারপর বসিরহাট কলেজে প্রশাসনিক বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী।
ওই বৈঠকেই প্রধানমন্ত্রী প্রাথমিক ভাবে বাংলার জন্য এক হাজার কোটি টাকা দেওয়ার ঘোষণা করেন। তা ছাড়াও ওড়িশার জন্য প্রথম ধাপে ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেন প্রধানমন্ত্রী। পর্যবেক্ষকদের মতে, মন কি বাতে প্রধানমন্ত্রী এদিন উমফান প্রসঙ্গ তুলে বোঝাতে চেয়েছেন, কেন্দ্রীয় সরকার বিষয়টিকে স্পর্শকাতরতার সঙ্গেই দেখছে।
ওড়িশায় ফণীতে যা ক্ষতি হয়েছিল তার তিনগুণ ক্ষতি এবার বাংলায় হয়েছে বলে দাবি করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। ঝড়ের রাতেই নবান্নের কন্ট্রোল রুমে বসে উদ্বিগ্ন মমতা জানিয়েছিলেন, দুই চব্বিশ পরগনা প্রায় ধ্বংস হয়ে গিয়েছে। ২০০৯-এ আয়লার দাপটে যে সমস্ত বাঁধ ভেঙে গিয়েছিল তার মেরামতির কাজ এখনও শেষ হয়নি। তার মধ্যেই উমফান আছড়ে পড়েছে বাংলায়। দুই চব্বিশ পরগনার উপকূলবর্তী এলাকা তো বটেই ঝড় চলে যাওয়ার ১১ দিন পরও কলকাতা শহরে তার ছাপ স্পষ্ট। প্রায় ১৫ হাজার গাছ উপড়ে গিয়েছে কলকাতায়। উপড়ে গিয়েছে কয়েকশ বিদ্যুতের খুঁটি। এখনও পর্যন্ত বৃহত্তর কলকাতার বহু জায়গায় ইন্টারনেট পরিষেবা স্বাভাবিক হয়নি।
এদিন মন কি বাত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগামী ৫ জুন বিশ্ব পরিবেশ দিবসে যত্নের সঙ্গে পালন করতে হবে। পরিবেশ বাঁচাতে বৃক্ষরোপণের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।