দ্য ওয়াল ব্যুরো: ওদের জন্মের আগেই বাবা-মা জানত জমজ সন্তান আসছে। এই বাজারে সাধারণ কৃষক পরিবারে একসঙ্গে দুটো বাচ্চার খরচ মুখের কথা নয়! তবু তো সন্তান। স্বামী-স্ত্রী মিলেই ঠিক করেছিলেন, ও ঠিক চালিয়ে নেবেন। কিন্তু সন্তান প্রসবের পর মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ে। সেই যমজ সন্তানের মাথা একটা। কিন্তু শরীর দুটো। এর মাথার সঙ্গেই জুড়ে ওরটা। ভয়াবহ দৃশ্য। অবশেষে দু’বছর ধরে দিল্লির এইমস-এ চিকিৎসা চলার পর ওড়িশার কন্ধমালে ঘরে ফিরছে জগা এবং কালিয়া।
কন্ধমালের নালিপাড়া গ্রামে ২০১৭ সালের ৪ জুলাই জন্ম হয়েছিল ওদের। কিন্তু জন্মের পরই এই দৃশ্য দেখে আঁতকে উঠেছিলেন মা। গোটা পরিবার চিন্তায় পড়ে গিয়েছিল, বাঁচানো যাবে তো ওদের? কটক মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক সুধাংশু মিশ্র এগিয়ে আসেন যমজ ভাইয়ের চিকিৎসার জন্য। নিজের খরচায় কটক মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে বিশেষ কেবিনে রাখা হয় ওদের। তারপর নিজেই যোগাযোগ করেন এইমস-এর নিউরো সার্জেনদের সঙ্গে। সেই তখন থেকেই এইমস-এ রাখা হয় এই এক শরীরের দুই ভাই জগা ও কালিয়াকে। চলে চিকিৎসা।
অগস্টের দ্বিতীয় সপ্তাহে অস্ত্রোপচার করেন এইমস-এর চিকিৎসকরা। কিন্তু অপারেশনের পর দু’জনের শরীর আলাদা করা গেলেও, অসুস্থ হয়ে পড়ে কালিয়া। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, জগা ছিল স্বাভাবিকই। বিশেষ পর্যবেক্ষণে রাখা হয় কালিয়াকে। আস্তে আস্তে সেরে উঠছে সে-ও। বৃহস্পতিবার কালিয়ার আরও একটি ছোট অস্ত্রোপচার হয়। বাবা-মা তো বটেই, কালিয়ার জন্য দিল্লি ছুটে গিয়েছেন ওড়িশার স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনামন্ত্রী নবকুমার দাসও। চিকিৎসকরা তাঁদের জানিয়েছেন, সব কিছু ঠিক থাকলে সেপ্টম্বরের ৭ তারিখে হাসপাতাল থেকে ছাড়া হবে দু’ভাইকে। জন্মের পর দু’বছর কেটে গিয়েছে। বাড়ি যায়নি ওরা। অবশেষে ঘরে ফিরতে চলেছে জগা-কালিয়া।