দ্য ওয়াল ব্যুরো: উপলক্ষ্য ছিল বিজেপির বিহার জয়ের উদযাপন। বুধবার সেই মঞ্চ থেকেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী পশ্চিমবঙ্গের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের নাম না করে কড়া বার্তা দিলেন নরেন্দ্র মোদী। তৃণমূলের নাম না করলেও তিনি কাকে উদ্দেশ করে বলছেন তা বুঝতে বাকি থাকেনি। এদিন নয়াদিল্লিতে বিজেপি সদর দফতরের সভায় প্রধানমন্ত্রী হঠাৎই বলেন, "গণতান্ত্রিক ভাবে মোকাবিলা না করতে পেরে কেউ কেউ বিজেপির নেতাকর্মীদের হত্যা করছেন। তাঁরা ভাবছেন, এসব করে বিজেপিকে থামিয়ে দেওয়া যাবে। কিন্তু দেওয়াল লিখন স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে। পড়ে নিন।"
এ ব্যাপারে বিজেপির রাজ্য নেতারা বলছেন, এর মাধ্যমেই মোদী দুটো জিনিস বুঝিয়ে দিতে চাইলেন । এক তিনি বাংলার ভোট নিয়ে খুব সিরিয়াস। এবং দুই, এর মাধ্যমে বাংলার পুলিশ প্রশাসনকেও বার্তা দিতে চাইলেন তিনি।
পশ্চিমবঙ্গ ছাড়াও কেরলে রাজনৈতিক খুন নিয়েও বিজেপির উদ্বেগ রয়েছে। তবে বাংলার তুলনায় কেরলে তেমন ঘটনা কম।
কয়েকদিন আগেই বাংলা সফরে এসেছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তিনিও সাংবাদিক সম্মেলনে বিজেপি কর্মীদের হত্যার অভিযোগ করেছিলেন। হতে পারে তিনিই দিল্লি ফিরে প্রধানমন্ত্রীকে বাংলা নিয়ে রিপোর্ট দিয়েছেন। তা ছাড়া রাজ্যপালও এ ব্যাপারে দিল্লিকে প্রায়ই রিপোর্ট পাঠাচ্ছেন এবং স্পষ্ট বলছেন, বাংলায় সুষ্ঠু ও অবাধ ভোটের পরিবেশ নেই।
দুর্গা পুজোর অষ্টমী থেকে আজ পর্যন্ত বাগনান, কাঁকিনাড়া, গয়েশপুরে বিজেপি কর্মীদের হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে। কৈলাস বিজয়বর্গীয়রা রোজ এ নিয়ে বাংলার শাসকদলের বিরুদ্ধে সরব হচ্ছেন। বিজেপির অভিযোগ, রাজনৈতিক হত্যাকে পারিবারিক বলে চালিয়ে দিচ্ছে পুলিশ। যার জন্য ময়নাতদন্তের দাবি নিয়ে আদালতেও যেতে হচ্ছে। এ সব নিয়ে বিজেপির রাগ কম নেই।
একটা সময় ছিল যখন বাংলায় রাজনৈতিক খুন, সন্ত্রাসের ঘটনা নিয়ে সরব হতেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ছোট আঙারিয়া, নানুর, নেতাইয়ের হত্যাকাণ্ড নিয়ে সিবিআই তদন্তের দাবি করেছিলেন তিনি। এমনকি দিল্লিতে গিয়ে রাষ্ট্রপতির সঙ্গেও দেখা করত তৃণমূল। মমতা যখন এনডিএ-র শরিক সে সময়ে লালকৃষ্ণ আডবাণী ছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী। তখন বাংলায় রাজনৈতিক হত্যা নিয়ে বামেদের সমালোচনা করতেন আডবাণী। আর এখন রাজনৈতিক খুন নিয়ে সেই তৃণমূলের বিরুদ্ধে সরব বিজেপি।
তবে পর্যবেক্ষকদের মতে, মোদী-অমিত শাহরা বাংলায় শক্তি বাড়ানোর লক্ষ্য আগেই স্থির করেছিলেন। বিহার ভোট তাঁদের আরও উৎসাহ দিয়েছে। ২০১৮ সালের অক্টোবর মাসের পর কোনও রাজ্যে বিজেপি সাফল্য পায়নি। সেই মধ্যপ্রদেশ, রাজস্থান, ছত্তীসগড় ভোট থেকে বিপর্যয় শুরু হয়েছে। তার পর লোকসভা ভোটের পর মহারাষ্ট্র হাতছাড়া হয়েছে, হরিয়ানায় ভোটের পর জোট করে টেনেটুনে সরকার গড়তে হয়েছে। তার পর ঝাড়খণ্ড ও দিল্লিতে হেরেছে বিজেপি। প্রায় ২ বছর পর কোনও রাজ্যে জিতল তারা। ফলে বিজেপি নতুন করে রক্তের স্বাদ পেয়েছে। এর পর পাঁচ রাজ্যে একসঙ্গে ভোট হবে। পশ্চিমবঙ্গ, কেরল, তামিলনাড়ু, অসম ও পণ্ডিচেরিতে ভোট হতে পারে এপ্রিল মাস নাগাদ। এর মধ্যে কেরল, তামিলনাড়ু ও পণ্ডিচেরিতে বিজেপির জনভিত্তি দুর্বল। অমিত শাহরা চাইছেন অসমের পাশাপাশি বাংলায় জয় সুনিশ্চিত করতে।