দ্য ওয়াল ব্যুরো: কোভিড সংক্রমণে দেশের চতুর্থ স্থানে রয়েছে গুজরাত। কিন্তু মৃত্যুর হার সবচেয়ে বেশি বিজেপি শাসিত এই রাজ্যে। মঙ্গলবার তা নিয়েই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নিজের রাজ্য গুজরাতের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানালেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। টুইট করে লিখলেন, এই তো গুজরাত মডেল বেরিয়ে পড়েছে! সেইসঙ্গে অ্যালবার্ট আইনস্টাইনকে উদ্ধৃত করে প্রাক্তন কংগ্রেস সভাপতি লিখেছেন, "উপেক্ষা করার চাইতে উগ্রতা বেশি বিপজ্জনক।"
বিবিসির একটি রিপোর্ট টুইট করে ওয়ানাড়ের সাংসদ লিখেছেন, "কোভিডে মৃত্যুর হার- গুজরাতে ৬.২৫ শতাংশ, মহারাষ্ট্রে ৩.৭৩ শতাংশ, রাজস্থানে ২.৩২ শতাংশ, পাঞ্জাবে ২.১৭ শতাংশ, পুদুচেরিতে ১.৯৮ শতাংশ, ঝাড়খণ্ডে ০.৫ শতাংশ এবং ছত্তীসগড়ে ০.৩৫ শতাংশ।"
মহারাষ্ট্র, তামিলনাড়ু, দিল্লির পর চতুর্থ স্থানে গুজরাত থাকলেও সেখানকার মৃত্যুহার জাতীয় গড়ের চেয়ে দ্বিগুণের বেশি। দেশে করোনা আক্রান্তদের মৃত্যুর হার ২.৮৬ শতাংশ। সেখানে গুজরাতে ৬.২৫ শতাংশ। সেই পরিসংখ্যান তুলে ধরেই বিজেপি শাসিত গুজরাত নিয়ে কটাক্ষ করেন রাহুল।
গত মাসে প্রায় প্রতিদিন গুজরাতে ৪০০ জনের শরীরে করোনা সংক্রমণ ধরা পড়েছিল। মঙ্গলবার সকালে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রক যে বুলেটিন প্রকাশ করেছে তাতে গুজরাতে মোট করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ২৪ হাজার ১০৪। মৃত্যু হয়েছে ১৫০০ জনের।
কয়েকদিন ধরেই গুঞ্জন চলছিল, এই হারে যেখানে সংক্রমণ বাড়ছে সেখানে কি ফের লকডাউন কঠোর করা হবে। যদিও মুখ্যমন্ত্রী বিজয় রুপানি গোটা বিষয়টিকে গুজব বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।
গুজরাতে মোট আক্রান্তের ৭৫ শতাংশই আহমেদাবাদের বাসিন্দা। তা ছাড়াও ভদোদরা, গান্ধী নগরেও সংক্রমণ ছড়িয়েছে। গুজরাতের চিকিৎসা ব্যবস্থা নিয়ে সমালোচনা করেছিল হাইকোর্টও। আহমেদাবাদের একটি হাসপাতালকে অন্ধকূপ বলে উল্লেখ করেছিল আদালত।
২০১৪ সালে কেন্দ্রে ক্ষমতায় আসার আগে ১৩ বছর গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন মোদী। প্রশাসনিক মডেলের প্রশ্নে বিজেপি কথায় কথায় গুজরাত মডেলকে তুলে ধরে। পর্যবেক্ষকদের মতে, সেটাকেই কটাক্ষ করতে চেয়েছেন রাহুল।