দ্য ওয়াল ব্যুরো: লস্কর-ই-তইবার মাথা তথা ২০০৮-এর মুম্বই হামলার মাস্টারমাইন্ড হাফিজ সইদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করবে বলে ঘোষণা করেছে পাকিস্তান সরকার। কিন্তু তাকে লোক দেখানো বলে উড়িয়ে দিল নয়াদিল্লি। স্পষ্ট করে বলে দিল, “আগে করুক, তারপর বোঝা যাবে। এ সব ঘোষণা লোক দেখানো।” হাফিজের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের পদক্ষেপ প্রসঙ্গে বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রবীশ কুমার বলেন, ‘কসমেটিক স্টেপস।’
জঙ্গি দমনে কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য অনেকদিন ধরেই পাকিস্তানের উপর চাপ দিচ্ছিল বিশ্বের বিভিন্ন দেশ। পাক প্রশাসন জানিয়েছে হাফিজ সইদ এবং তার সঙ্গীদের বিরুদ্ধে মোট ২৩টি মামলা রুজু হয়েছে। পাকিস্তানের সন্ত্রাস মোকাবিলা বিভাগ জানিয়েছে, জামাত-উদ-দাওয়া প্রধানের বিরুদ্ধে ২৩টি এবং তার ১২ জন ঘনিষ্ঠের বিরুদ্ধে পাঁচটি ট্রাস্টকে সন্ত্রাসে অর্থ জোগানোর অভিযোগ রয়েছে। সেই ভিত্তিতেই রুজু হয়েছে এই মামলাগুলি।
আল-আনফাল, দাওয়াত উল ইরশাদ এবং মুয়াজ বিল জবল, এইসব ট্রাস্টের নামে এতদিন ধরে বিপুল পরিমাণ সম্পত্তি তৈরি করেছিল হাফিজ সইদ এবং তার সঙ্গীরা। এই সম্পত্তি থেকেই জোগাড় হতো বিপুল পরিমাণ অর্থ। সেটাই লাগানো হতো সন্ত্রাসের কাজে। এই অভিযোগেই, লাহোর, গুজরানওয়ালা এবং মুলতানে মামলা রুজু করা হয়েছে।
নয়া দিল্লির তরফে বলা হয়েছে, “এক দিকে পাকিস্তান হাফিজের মতো জঙ্গিকে ফাঁকা ঘুরতে দিচ্ছে। আবার ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলছে। এ তো দ্বিচারিতা!” ভারতের তরফে আরও বলা হয়েছে, “মুম্বই হামলার পর নয়া দিল্লি সমস্ত প্রমাণ ইসলামাবাদের হাতে তুলে দিয়েছিল। কিন্তু কোনও ব্যবস্থা করেনি পাক প্রশাসন।”
পাকিস্তান পুলিশ জানিয়েছে, খুব শিগগিরই গ্রেফতার করা হবে হাফিজ এবং তার ঘনিষ্ঠদের। একটি সর্বভারতীয় সংবাদমধ্যমের তরফে পাকিস্তান পুলিশের শীর্ষ কর্তা নিয়াব হায়দার নাকভিকে প্রশ্ন করা হয়, এখনও কেন গ্রেফতার করা হয়নি এমন একজন জঙ্গিকে? জবাবে তিনি জানিয়েছেন, “এফআইআর প্রথম পদক্ষেপ। সেটা রুজু হয়েছে। এ বার পদক্ষেপ হবে।”
২০১৭ সালে হাফিজ সইদকে আটক করেছিল পাক প্রশাসন। কিন্তু ১১ মাস পরেই ড্যাং ড্যাং করে ছাড়া পেয়ে যায় লস্কর প্রধান। কূটনীতিকদের মতে, সেই অভিজ্ঞতা থেকেই ভারত হয়তো এই মন্তব্য করেছেন। এমনিতে পুলওয়ামা ঘটনার পর থেকেই সারা দুনিয়া জুড়ে সন্ত্রাস ইস্যুতে কোণঠাসা পাকিস্তান। প্রতিদিন চাপ বাড়ছিল ইমরান খান প্রশাসনের উপর। পরিস্থিতি এমন জায়গায় যায় যে, ‘বন্ধু’ চিনও নিন্দেমন্দ শুরু করে দেয়। এখন দেখার হাফিজের বিরুদ্ধে সত্যিই পদক্ষেপ করে কি না পাকিস্তান। এবং তা কবে।