দ্য ওয়াল ব্যুরো: লকডাউনের মেয়াদ বৃদ্ধি হবে কি হবে না এই নিয়ে যখন আলোচনা শুরু হয়ে গেছে তখন তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করলেন উপরাষ্ট্রপতি বেঙ্কাইয়া নায়ডু। মঙ্গলবার তিনি বলেন, "যদি ১৪ এপ্রিলের পরও এই পরিস্থিতি চলে তাহলে আমাদের সবাইকে কষ্ট করে আরও ক'টা দিন কাটিয়ে দিতে হবে।"
উপরাষ্ট্রপতির এই মন্তব্য নিয়ে স্বাভাবিক ভাবেই জল্পনা তৈরি হয়েছে। অনেকের বক্তব্য, লকডাউনের মেয়াদ বাড়ানোর ইঙ্গিত দিয়ে দিলেন বেঙ্কাইয়া নায়ডু। দেশের উপরাষ্ট্রপতি যখন এই ধরনের কথা বলছেন তখন বুঝতে হবে নিশ্চয়ই সরকার সে ব্যাপারে ভাবনাচিন্তা শুরু করেছে। মঙ্গলবার উপরাষ্ট্রপতি বলেছেন, "ক'টা দিন কষ্ট করলে যদি একটা সুন্দর ভবিষ্যৎ পাওয়া যায় তাহলে সেটা আমাদের করতে হবে।"
ইতিমধ্যেই তেলেঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী কে চন্দ্রশেখর রাও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন লকডাউনের মেয়াদ বৃদ্ধি করার। দিল্লির নিজামুদ্দিন এলাকার মসজিদে তবলিঘি জামাতে যোগদানকারীদের থেকেই তেলেঙ্গানায় সংক্রমণ ছড়ানোর হার বেড়েছে। ছ’জন জামাত সদস্যের মৃত্যু হয়েছে ওই রাজ্যে। আক্রান্তের সংখ্যা রোজই প্রায় বাড়ছে। সোমবার পর্যন্ত তেলেঙ্গানায় ৩২১ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। কোভিড-১৯ সংক্রমণের কারণে মারা গিয়েছেন সাত জন।
সংবাদসংস্থা এএনআই জানিয়েছে, কে চন্দ্রশেখর রাওয়ের অফিস তথা মুখ্যমন্ত্রীর সচিবালয়ের তরফে বলা হয়েছে, যেহেতু লকডাউন প্রত্যাহারের ব্যাপারে বস্টন কনস্টালিং গ্রুপ (বিসিজি) সতর্ক করেছে তাই সে কথা বিবেচনা করার আর্জি জানানো হয়েছে প্রধানমন্ত্রীকে।
৬ এপ্রিল বিজেপির প্রতিষ্ঠা দিবসে দলীয় কর্মীদের উদ্দেশে ভিডিও বার্তায় মোদী বলেছিলেন, করোনার বিরুদ্ধে এই যুদ্ধটা অনেক লম্বা। এখানে ক্লান্ত হলে চলবে না। বিশ্রাম নেওয়ারও কোনও অবকাশ নেই। আমাদের এই যুদ্ধ জিততেই হবে। তারপর উপরাষ্ট্রপতির এহেন বক্তব্য স্বাভাবিক ভাবেই জল্পনা উস্কে দিয়েছে, তাহলে কি ১৪ এপ্রিলের পরও চলবে এই বন্দিদশা?