দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রায় ১০ হাজার আধাসেনাকে জম্মু ও কাশ্মীর থেকে প্রত্যাহার করছে কেন্দ্রীয় সরকার। বুধবার বিকেলে এই মর্মে নির্দেশিকা জারি করেছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক। গত বছর অগস্ট মাসে জম্মু ও কাশ্মীর থেকে ৩৭০ ধারা তথা বিশেষ সাংবিধানিক মর্যাদা প্রত্যাহার নিয়েছিল নরেন্দ্র মোদী সরকার। একই সঙ্গে জম্মু ও কাশ্মীর রাজ্য ভেঙে দুটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল করে কেন্দ্র। তার আগেই সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে উপত্যকায় বিপুল পরিমাণ আধাসেনা মোতায়েন করেছিল দিল্লি।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের সঙ্গে সিআরপিএফ এবং সিএপিএফের বৈঠকের পরেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, “দ্রুত জম্মু ও কাশ্মীরের বিভিন্ন জায়গা থেকে ১০ হাজার আধা সেনা প্রত্যাহার করা হবে।”
নির্দেশিকা অনুযায়ী, যে ১০০ কোম্পানি আধাসেনা জম্মু ও কাশ্মীর থেকে প্রত্যাহার করা হবে তার মধ্যে ৪০ কোম্পানি সিআরপিএফ। এছাড়া ২০ কোম্পানি করে সিআইএসএফ, বিএসএফ এবং সশস্ত্র সীমা বলের সেনা তুলে নেওয়া হবে উপত্যকা থেকে।
গত মে মাসে জম্মু ও কাশ্মীর থেকে ১০ কোম্পানি সিএপিএফ প্রত্যাহার করেছিল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক। একটি সিএপিএফ কোম্পানিতে ১০০ জন জওয়ান থাকেন। তারপর ফের এত বড় সংখ্যক সেনা প্রত্যাহারে সিদ্ধান্ত নিল দিল্লি।
গত বছর ৫ অগস্ট সংসদে ৩৭০ ধারা প্রত্যাহার করেছিল কেন্দ্র। তার আগে অগস্টের পয়লা তারিখ থেকেই কাশ্মীরে একাধিক সতর্কতামূলক পদক্ষেপ শুরু করে কেন্দ্রীয় সরকার। সেনা মোতায়েনের পাশাপাশি নিষিদ্ধ করে দেওয়া হয় গণ জমায়েত। কয়েকশ রাজনৈতিক কর্মীকে গৃহবন্দি ও সতর্কতামূলক গ্রেফতার করে কেন্দ্রীয় সরকার। মেহেবুবা মুফতি থেকে সপুত্র ফারুক আবদুল্লা—দীর্ঘ দিন ধরে তাঁদের ঘরবন্দি রাখা হয়। তা ছাড়া মোবাইল পরিষেবা সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হয় ভূ-স্বররগে।
এই প্রত্যাহারের পরেও জম্মু ও কাশ্মীরের নিরাপত্তার দায়িত্বে এখনও মোতায়েন থাকছে ৬০ ব্যাটেলিয়ন সিআরপিএফ। একটি ব্যাটেলিয়নে থাকে হাজার জন জওয়ান। তা ছারাও অন্য বাহিনীর আধাসেনারাও মোতায়েন থাকছেন কাশ্মীরে। তবে এক সঙ্গে ১০ হাজার আধা সেনা প্রত্যাহারকে বর সিদ্ধান্ত বলেই মনে করছেন অনেকে। কয়েক দিন আগেই জম্মু ও কাশ্মীরে শুরু হয়েছে ফোর-জি ইন্টারনেট পরিষেবা।