রেলের সম্পত্তি নষ্ট করতে দেখলেই গুলি করুন! ‘প্রশাসনকে নির্দেশ’ রেল প্রতিমন্ত্রীর
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নাগরিকত্ব বিল নিয়ে এমনিতেই আগুন জ্বলছে বাংলা থেকে দিল্লিতে। তার উপর মঙ্গলবার বিক্ষোভকারীদের সমালোচনা করতে গিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করে বসলেন খোদ রেল প্রতিমন্ত্রী সুরেশ অঙ্গাড়ি। তিনি বলেন, “আমি মন্ত্রী হিসেবে সংশ্লিষ্ট জেলা প্
শেষ আপডেট: 17 December 2019 15:07
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নাগরিকত্ব বিল নিয়ে এমনিতেই আগুন জ্বলছে বাংলা থেকে দিল্লিতে। তার উপর মঙ্গলবার বিক্ষোভকারীদের সমালোচনা করতে গিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করে বসলেন খোদ রেল প্রতিমন্ত্রী সুরেশ অঙ্গাড়ি। তিনি বলেন, “আমি মন্ত্রী হিসেবে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসনকে নির্দেশ দিচ্ছি, কেউ যদি ট্রেনে ঢিল ছোড়ে বা রেলের সম্পত্তি নষ্ট করে, তা হলে দেখামাত্রই গুলি করুন।”
রেল প্রতিমন্ত্রীর এ ধরনের নির্দেশ দেওয়ার অধিকার রয়েছে কিনা তা পরের কথা। প্রশ্ন উঠেছে, কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার কোনও সদস্য এরকম দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্য কি আদৌ করতে পারেন? রেলের সম্পত্তি সুরক্ষিত রাখার উপায় কি দেখামাত্র গুলি করা হতে পারে!
প্রসঙ্গত, নাগরিকত্ব আইনের প্রতিবাদে পশ্চিমবঙ্গেও বেশ কয়েকটি ট্রেন জ্বালিয়ে দিয়েছিল বিক্ষোভকারীরা। মুর্শিদাবাদের বেলডাঙা রেল স্টেশন ও উলুবেড়িয়া ভাঙচুর চালানো হয়। কৃষ্ণপুর স্টেশনে পাঁচটি ট্রেনে পর পর আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়। তা ছাড়া টিকিট কাউন্টার থেকে টাকা লুঠ করার অভিযোগও উঠেছে।
দেখুন ভিডিও।
https://www.facebook.com/TheWallNews/videos/511121909749253/?eid=ARAoaXDzBWJtmOsubgF3ICA2b47ParxI2wkS0XTienpJ9tmjyJW9K3jaiVp7cynjcoWdK2_cmlK-gXhv
এ প্রসঙ্গেই রেল প্রতিমন্ত্রী এদিন বলেন, নাগরিকত্ব আইন নিয়ে বিরোধীরা মানুষকে ভুল বোঝাচ্ছেন। সংখ্যালঘুদেরও অনেকেই বিষয়টি না বুঝেই তা নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছেন। কিন্তু এই আইনের ফলে দেশের কোনও নাগরিকের কোনও ক্ষতি হবে না। এর পরেই তিনি রেলের উপর হামলার প্রসঙ্গ তোলেন ও রেলের সম্পত্তি নষ্ট করলে দেখামাত্রই গুলি করার দাওয়াই দেন। তাঁর বক্তব্য, একটা ট্রেন তৈরি করতে এক বছরেরও বেশি সময় লাগে। এটা করদাতাদের টাকায় তৈরি হয়। অনেকের ঘামও রয়েছে এর পিছনে। এভাবে কেউ রেলের সম্পত্তির উপর তাণ্ডব চালাতে পারে না। রেল প্রতিমন্ত্রীর অন্য বক্তব্য নিয়ে অনেকেরই আপত্তি নেই। কিন্তু গুলি চালানোর কথা বলাতেই বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
এর আগে ইউপিএ জমানায় রেল প্রতিমন্ত্রী ছিলেন কংগ্রেস সাংসদ অধীর চৌধুরী। মুর্শিদাবাদে একাধিক রেল স্টেশনে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা নিয়ে তিনিও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তবে তিনি মানুষকে বোঝানোর চেষ্টা করে এসব থামাতে চেয়েছেন। সেদিক থেকে অঙ্গাড়ির বক্তব্যের সঙ্গে অধীরবাবুর বক্তব্যের ফারাক পরিষ্কার।

অধীরবাবু বলেছেন, রেল কারও একার সম্পত্তি নয়, যে রাগ হলেই ভাঙচুর করবে। দেশের নাগরিকদের করের টাকায় এই সম্পত্তি গড়ে তোলা হয়েছে। তিনি এও বলেন, “সাধে কি লোকে বলে আমরা মুর্শিদাবাদের লোকেরা মাথামোটা। রেলের সম্পত্তি নষ্ট করলে তো আমাদেরই ক্ষতি। মুর্শিদাবাদই তো বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে দেশের অন্য অংশের থেকে। এই যে বেলডাঙা, কৃষ্ণপুরে ভাঙচুর হল তার পর ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে গেল, তাতে ক্ষতি কার হল?”
শুধু রেলের সম্পত্তি নয়, বাংলায় বহু সরকারি বাসেও আগুন লাগিয়ে দিয়েছিল বিক্ষোভকারীরা। অন্তত চল্লিশটি সরকারি বাস ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাতে সরকারের ক্ষতি হয়েছে ২০ কোটি টাকারও বেশি। এদিন সে প্রসঙ্গে রাজ্যের পরিবহণ মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, "গণতান্ত্রিক ভাবেও আন্দোলন করা যায়। এই হিংসা আন্দোলনের পথ নয়। যারা ট্রেন, বাস ভাঙচুর করছে তাদের সামাজিক ভাবে বিচ্ছিন্ন করে দিন।"