দ্য ওয়াল ব্যুরো: নদিয়ার শান্তিপুরের বুড়োশিবতলা এলাকায় প্রায় চারশো বছর ধরে হয়ে আসছে বাসন্তী পুজো। বসন্তকালের দুর্গাপুজো এখনও হয় অনেক বাঙালির ঘরে। নদিয়ার বুড়োশিবতলাতেও দুর্গাপুজো হয় বছরের এই সময়ে। প্রতিবছর এদিন সাজো সাজো রব থাকে পুজাকে কেন্দ্র করে। কিছুদিন আগে থেকে শুরু হয় চাঁদা তোলা। এই সময় লোকজন নতুন পোশাক পরেন। মণ্ডপে ঢাক বাজে। অষ্টমীতে ভোগ বিতরণ করা হয় এবং প্রতিদিন হয় সন্ধ্যারতি। নিয়ম মেনে হোমও হয়।
করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রুখতে এখন দেশজুড়ে চলছে লকডাউন। সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে বলা হয়েছে। শান্তিপুরে অন্তত চারটি বড় মাপের বাসন্তীপুজো হলেও বুড়োশিবতলার পুজোই সবচেয়ে পুরনো। প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে এখানে পুজোর আয়োজন করা হয়েছে। তবে আড়ম্বর নেই একবারেই। পুরোহিত এসেছেন মুখে কাপড় বেঁধে।
আচমনের সময় মুখে গঙ্গাজল ঠেকাতে হয়। তবে শাস্ত্রেই রয়েছে “আতুরে নিয়ম নাস্তি বালেবৃদ্ধে তথৈবচ।” শাস্ত্রের সেই বিধি মেনেই পুজো হল বুড়োশিবতলায়।
এলাকার প্রবীণরা বলেছিলেন নিয়মরক্ষার পুজোর আয়োজন করতে। সেটাই করা হয়েছে। তাঁদের পরামর্শ মতো পুরোহিত ছাড়া এখানে ছিলেন পুজোর জোগাড়ের জন্য দু’জন মহিলা ও পুজো কমিটির একজন সদস্য। সরকারি ভাবে যেখানে সাত জন পর্যন্ত জমায়েতের অনুমতি দেওয়া হয়েছে সেখানে এই সংখ্যা চারে বেঁধে রেখেছেন পুজো কমিটির সদস্যরা।
এবারে কারও থেকে কোনও চাঁদা নেওয়া হয়নি। পুজোমণ্ডপে উপস্থিত থাকতে বারণ করা হয়েছে প্রত্যেককে। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রুখতে এই বার্তা পাঠানো হয়েছে প্রতিটি বাড়িতে।
কথিত আছে যে এক সময় বসন্ত কালেই আরাধনা করা হত দেবী দুর্গার। রাবণকে বধ করার জন্য অকালে দেবীর পুজো করেন শ্রীরামচন্দ্র। শরৎকালের সেই পুজো অকালবোধন নামে পরিচিত। গত প্রায় আড়াইশো বছরে সেই পুজো বেশি প্রাধান্য পেয়েছে এমনকি বাঙালির প্রধান উৎসবে পরিণত হয়েছে। তবে এখনও চৈত্রমাসের শুক্লা সপ্তমীতে বাসন্তীপুজো হয় বহু জায়গাতে। তার পরের তিথিতে অন্নপূর্ণা পুজো ও তার পরের তিথিতে রামনবমী।
এবার সব জায়গায় শুধুমাত্র নিয়মরক্ষাটুকু হচ্ছে।