দ্য ওয়াল ব্যুরো: গেরুয়া শিবিরের মোকাবিলায় বৃহস্পতিবার নৈহাটি থেকেই বঙ্গজননী বাহিনী গড়ার ডাক দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শুক্রবার দলের বৈঠকে এই বাহিনী তৈরির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বারাসতের তৃণমূল সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারকে। রাজ্যের সমস্ত ব্লকে এই বাহিনী তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন মমতা।
শেষ দফার ভোটের আগেও দলের মহিলা কর্মীদের নিয়ে বাহিনী তৈরির কথা বলেছিলেন তৃণমূলনেত্রী। কিন্তু সেটা ছিল ভোটের দিন কেন্দ্রীয় বাহিনীর মোকাবিলার জন্য। এ বার বছরভর এই বাহিনীকে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন দিদি।
আলাদা জায়গা না পাওয়া গেলে আপাতত তৃণমূলের পার্টি অফিসকেই বঙ্গজননী বাহিনীর কাজের জন্য ব্যবহার করতে বলেছেন নেত্রী। তাঁর কথায়, এই বাহিনীর মহিলাদের হাতে থাকবে শান্তিনিকেতনী ডাণ্ডা। প্রতিটি বাহিনীতে থাকবেন ২০ জন করে মহিলা। প্রত্যেকের সচিত্র পরিচয় থাকবে বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী। বাহিনীর ড্রেস কোডও স্থির করে দিয়েছেন দিদি। সাদা খোলের সবুজ পাড়ের শাড়ি পরবেন মহিলারা। মহিলাদের উদ্দেশে দিদি নির্দেশ দিয়ে বলেছেন, “বিজেপি-র গুণ্ডারা যদি বোমা মারে, তাহলে সরে দাঁড়ান। তারপর হাতের কাছে যা পাবেন হাতা, খুন্তি নিয়ে ধেয়ে যান।”
রাজনৈতিক মহলের মতে, লোকসভায় বিপর্যয়ের পর থেকে বাংলার একাধিক জায়গায় তৃণমূলকে ‘আক্রান্ত’ হতে হচ্ছে বিজেপি-র হাতে। দখল হচ্ছে পার্টি অফিস। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আন্দাজ করতে পারছেন, এক্ষুণি এক্ষুণি যদি প্রতিরোধ করা না যায়, তাহলে পরিস্থিতি হাতের বাইরে বেরিয়ে যাবে। তাই সংগঠনকে সেভাবেই সাজাতে চাইছেন তিনি। রাজীব গান্ধী এক সময়ে কংগ্রেসে সেবাদল তৈরি করেছিলেন। সেই কায়দাতেই মমতা এই বাহিনী তৈরি করেছেন বলে মত তাঁদের। কিন্তু পরিকল্পনা করলেও সব যে নিচুস্তরে বাস্তবায়িত হয়, তেমনটা নয়। এ বার ভটে সেই অভিজ্ঞতা হয়েছে তৃণমূলের। এখন দেখার বঙ্গজননীর ডাক কতটা বাস্তবে রূপায়িত করতে পারেন কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নেতৃত্বে তৃণমূলের মহিলা ব্রিগেড।