দ্য ওয়াল ব্যুরো: সাপের ছোবল থেকে কৃষকদের বাঁচাতে পায়ের মোজা আবিষ্কার করতে বললেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
সোমবার এসএসকেএম হাসপাতালে চিকিৎসক দিবসের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী তথা স্বাস্থ্যমন্ত্রী। সেখানে তিনি বলেন, “স্নেক বাইট এক্সপার্টদের সঙ্গে কথা বলে দেখো, এমন কোনও জিনিস মোজা টাইপের বা আমরা যেমন নি ক্যাপ ট্যাপ পরি, তেমন কিছু বানানো যায় কি না! জুতোর দরকার নেই। ওইটা পরে মাঠে নামলে, সাপে কামড়ালে যাতে ছোবল না লাগে।”
মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, “সিস্টেমটাকে, মেকানিজমটাকে ঠিকঠাক রেখে আবিষ্কার করতে পারলে বন্যার সময়ে মাঠে বা জলে যাঁরা কাজ করেন তাঁদের উপকারে লাগবে।”
https://www.youtube.com/watch?v=29r-NaoBuds&feature=youtu.be
চাষিদের জন্য ওই মোজা জাতীয় জিনিস আবিষ্কার করে কী ভাবে ধাপে ধাপে তাদের কাছে পৌঁছে দিতে হবে তা এ দিন বুঝিয়ে দেন মুখ্যমন্ত্রী। গোটা প্রকল্পকে চারটি পর্যায়ে ভাগ করতে বলেন মমতা। তাঁর কথায়, “প্রথম, এটাকে বার করতে হবে (পড়ুন মোজাটা আবিষ্কার করতে হবে)। দ্বিতীয়ত, পরীক্ষা করে দেখতে হবে সঠিক ভাবে কাজ হচ্ছে কি না। তৃতীয়ত, ওই মোজা পর্যাপ্ত সংখ্যায় তৈরি করতে হবে। এবং চতুর্থত, সেগুলি তৈরি হয়ে গেলে চাষিদের কাছে পৌঁছে দিতে হবে।”
এ দিন মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, “এগুলো ইমার্জেন্সি। তাই চটপট বানিয়ে ফেলতে হবে।” মূলত কৃষকদের জন্যই এ কথা বলেছেন মমতা। তাঁর কথায়, মাঠে বা জলা জায়গায় নেমে কাজ করেন যাঁরা, তাঁদের কাছে এগুলি পৌঁছে দিতে হবে। মমতা এ দিন বলেন, “সাপ প্রথমে পায়ে কামড়ায়। ওটাই অরিজিনাল জায়গা। আমি তো সারাক্ষণ হাওয়াই চটি পরে হাঁটি। এটা আমার পক্ষেও ডেঞ্জারাস।”
গত কয়েক দিনে রাজ্যে বিভিন্ন প্রান্তে সাপের কামড়ে মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। সুন্দরবন এলাকায় সাপের কামড়ে এক যুবকের মৃত্যুর পর ভেলায় ভাসিয়ে দেওয়ার ঘটনায় শোরগোল পড়ে গিয়েছিল ক’দিন আগেই। এর মধ্যেই মুখ্যমন্ত্রী পরামর্শ দিলেন পায়ের ক্যাপ জাতীয় কিছু বা মোজা আবিষ্কার করার।
যদিও সর্প বিশারদরা বলছেন, মোজা পরে মাঠে কাজ করা মুশকিল। উপায় একটাই, পা থেকে হাঁটু পর্যন্ত গামবুট পরা। চা বাগান বা চাষের জমিতে এ ছাড়া কোনও বিকল্প নেই। কিন্তু তাঁদের মতে, অনেক ক্ষেত্রেই এগুলি অনুসরণ করা হয় না।