দ্য ওয়াল ব্যুরো: মূল্যবৃদ্ধি থেকে পেগাসাস—একাধিক ইস্যু নিয়ে একুশের সভা থেকে কার্যত নরেন্দ্র মোদীকেই আক্রমণের নিশানা করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দিদির আক্রমণ থেকে বাদ গেল না প্রধানমন্ত্রীর মাসিক বেতার ভাষণের অনুষ্ঠান 'মন কি বাত'ও।
এদিন মমতা বলেন, "মহব্বত কাম সে হোতা হ্যায়, মন কি বাত সে নেহি। মোদীজি, ইয়ে ইয়াদ রাখনা হ্যায়!'
প্রধানমন্ত্রীকে আক্রমণের পাশাপাশি এদিন দিদি ডাক দিলেন উন্নততর তৃণমূল গড়ে উন্নততর দেশ গড়ার।
২০০১-এর বিধানসভা ভোট মনে পড়ে? কেশপুর, গড়বেতা, সবং, পিংলা থেকে হুগলির খানাকুল হয়ে বাঁকুড়ার কোতলপুর তখন 'টেরর জোন।' রণংদেহি মূর্তিতে বিরোধী নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সিপিএম যাচ্ছে যাচ্ছে রবই উঠে গিয়েছিল!
সেবার তৎকালীন সিপিএম রাজ্য সম্পাদক প্রয়াত অনিল বিশ্বাস একটি স্লোগান দিয়েছিলেন, 'বামফ্রন্টের বিকল্প উন্নততর বামফ্রন্ট।' গত বছরই দিদি একবার বলেছিলেন, তৃণমূলের বিকল্প উন্নততর তৃণমূল। কিন্তু এবার একুশে জুলাই, তারসঙ্গে জুড়ে দিলেন জাতীয় রাজনীতিকেও। বললেন, "উন্নততর তৃণমূল না গড়ে তুলতে পারলে উন্নততর দেশ গড়ে তোলা যাবে না।"
একুশের সভা থেকে দিদি যে ২০২৪-এর লোকসভাকে পাখির চোখ করার বার্তা দেবেন তা আগেই আন্দাজ করা গিয়েছিল। বিভিন্ন রাজ্যে মমতার সভা দেখানোর আয়োজন, বিরোধী নেতাদের আমন্ত্রণ—এসবেই স্পষ্ট হয়েছিল প্রেক্ষাপট। অনেকের মতে, দিদি আসলে বোঝাতে চেয়েছেন বিজপিকে হঠিয়ে হঠিয়ে উন্নততর দেশ গড়তে গেলে তৃণমূলকেই হয়ে উঠতে হবে চাবিকাঠি।
এদিন বক্তৃতার শুরুতেই মমতা বলেছেন, আমাকে গোটা দেশ কভার হতে হবে। তাই বাংলা, হিন্দি, ইংরাজিতে বলব। তাই-ই করেছেন মমতা। জাতীয় স্তরে বিরোধী নেতাদের ঐক্য গড়ে তোলারও বার্তা দিয়েছেন তৃণমূলনেত্রী। এখনই বিরোধী ফ্রন্টের প্রস্তুতি নেওয়ার কথা বলেছেন তিনি। তাঁর কথায়, "সময় নষ্ট করলেই নষ্ট হবে। কেউ মারা গেলে তারপর ডাক্তার ডেকে লাভ নেই। সময় থাকতে থাকতেই তা করা ভাল।" বুঝিয়ে দিতে চেয়েছেন, এখন থেকেই চব্বিশের প্রস্তুতি শুরু করতে চান তিনি।
এদিন পেগাসাস নিয়েও নরেন্দ্র মোদী সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন মমতা। হাতে তুলে দেখিয়েছেন, নিজের ফোনে টেপ লাগিয়েছেন তিনি। আড়ি পাতা রুখতেই এমন কৌশল নিয়েছেন তৃণমূলনেত্রী। অভিযোগ করেছেন, তিনি, প্রশান্ত কিশোর এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় যে মিটিং করেছিলেন টেলি কনফারেন্সে সেটাও রেকর্ড হয়ে গিয়েছে।
সার্বিক ভাবেই এদিন মমতার বক্তৃতার সিংহ ভাগ জুড়ে ছিল জাতীয় রাজনীতির বিষয়। তবে পইপই করে বলেছেন, তার জন্য তৃণমূলকে শক্তিশালী সংগঠন করতে হবে। মূল্য বৃদ্ধির বিরুদ্ধে প্রতিদিন আধঘণ্টা করে মিছিল করার পরামর্শ দিয়েছেন মমতা। এও বলেছেন, সবাইকে নিয়ে কাজ করতে হবে। ছাত্র-যুবদের বেশি করে গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেছেন নেত্রী। তাঁর কথায়, "ছাত্র-যুবদের না আনলে আগামী দিনে দলটা কে করবে?" দলের সর্বস্তরে বার্তা দিয়ে এও বলেছেন, সংগঠনে এবার মহিলাদের বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে। এভাবেই তৃণমূলকে উন্নততর করার বার্তা দিয়েছেন মমতা।