দ্য ওয়াল ব্যুরো: কালনায় যেমন সরস্বতী, খালনায় লক্ষ্মী। কলকাতার দুর্গাপুজো, বারাসতের কালীপুজো, চন্দননগরের জগদ্ধাত্রী পুজো, চুঁচুড়ার কার্তিক পুজোর কথা আমরা সবাই জানি। আজ লক্ষ্মীপুজো, কিন্তু আমরা অনেকেই জানি না পশ্চিমবাংলায় এক বর্ধিষ্ণু গ্রামে দুর্গাপুজোর মতোই জাঁকজমক সহকারে পুজিতা হন মা লক্ষ্মী। সারা বছর মা লক্ষ্মীর অপেক্ষায় দিন গোনে হাওড়ার খালনা গ্রাম। হাওড়া জেলার বাগনান স্টেশন থেকে মাত্র ১৯ কিলোমিটার দূরের গ্রাম খালনা। যাকে 'লক্ষ্মীগ্রাম' বলে চেনে হাওড়া। প্রায় কুড়ি হাজারেরও বেশি পরিবার বাস করেন খালনায়। প্রায় দেড়শো বছর আগে এই গ্রামে প্রথম মা লক্ষ্মীর পুজো শুরু হয়। তার পর থেকে এই গ্রামের কিছু বাড়িতে বংশপরম্পরায় মা লক্ষ্মী পূজিতা হয়ে আসছেন। ১৯৭৮ সালের শরৎকালে হওয়া ভয়ংকর বন্যায় খালনা গ্রামের প্রচুর ক্ষতি হয়। সেই বছর সম্মিলিত ভাবে কোজাগরী লক্ষ্মীর আরাধনা করে গোটা গ্রাম। এর কয়েক বছরের মধ্যেই অর্থনৈতিক দিক থেকে ঘুরে দাঁড়ায় খালনা। শুরু হয় দূর্গাপুজার মাপে ও বাজেটে মা লক্ষ্মীর পূজা, তিনদিন ধরে। বারোয়ারি ও ছোট-বড় পুজো মিলিয়ে কয়েকশো পুজো হয় এখানে। বারোয়ারি লক্ষ্মীপুজো কমিটি গুলি লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ করেন। দুর্গাপুজোর মতোই লক্ষ্মীপুজোয় থিমের ছড়াছড়ি দেখতে পাওয়া যায় খালনাতে। এর আগে লক্ষ্মীপুজোয় খালনা আগে দেখেছে ৪০ ফুটের লক্ষ্মী প্রতিমা, এ বার দেখতে চলেছে মুক্তো দিয়ে তৈরি করা লক্ষ্মী প্রতিমা, মাটির নীচে কুবেরলক্ষ্মী, অযোধ্যা পাহাড়ে লক্ষ্মী।  এই পুজোকে ঘিরে খালনা গ্রামে বিশাল মেলা বসে। এবারের লক্ষ্মীপুজোয় খালনার বড় পুজোগুলির বাজেট ঘোরাফেরা করছে ৩ থেকে ১৫ লক্ষ টাকার মধ্যে। এলাকার প্রাচীনতম লক্ষ্মীপুজোটি  হল ক্ষুদিরায়তলা সর্বজনীন লক্ষ্মীপুজো। এ বছর পুজোটি পড়ল ১৫১তম বছরে। গত বছরে পুজোর দেড়শো বছরে বাজেট ছিল প্রায় ছয় লক্ষ টাকা। এবার বাজেট কমিয়ে এনেছেন উদ্যোক্তারা, এবারের বাজেট প্রায় ৩ লক্ষ টাকা।  এঁদের থিম 'মা দিয়েছেন দুই হাত ভরে’। বিখ্যাত পুজোগুলির মধ্যে আছে ৯৬ বছরের পুরোনো কালীমাতা তরুণ সঙ্ঘের পুজো,আনন্দময়ী তরুণ সঙ্ঘ,মিতালি সঙ্ঘ,পল্লি সঙ্ঘে,আমরা সবাই, রাজবংশীপাড়া বারোয়ারি, খালনা হরিসভা, ঘোষপাড়া, এ টু জেড ক্লাব, মালঞ্চ লক্ষ্মী মাতা ক্লাব এবং চারুময়ী লক্ষ্মীমন্দিরের পুজো।
পুজো সুষ্ঠু ভাবে সম্পন্ন করতে নানা ব্যবস্থাও নিয়েছে পুলিশ। করা হচ্ছে সহায়তা কেন্দ্র। খালনা বাজারের কাছে খালনা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে পুলিশ অস্থায়ী ক্যাম্প করেছে। উপস্থিত ফায়ারবিগ্রেডও। গোটা খালনা গ্রাম সেজে উঠেছে আলোকমালায়।  গ্রামের বাইরে যাঁরা থাকেন তাঁরা লক্ষ্মী পূজার সময় গ্রামের বাড়ি ফিরে আসেন। শুধু হাওড়া জেলা নয় আশেপাশের  জেলাগুলি থেকেও প্রচুর মানুষ আসেন খালনার লক্ষ্মীপুজো দেখতে। তাই আজ সকাল থেকেই মানুষের ঢল নেমেছে প্যান্ডেলে প্যান্ডেলে। দূরদূরান্ত থেকে আসতে শুরু করেছেন উৎসাহী দর্শকেরা। তিনদিনে প্রায় দশ বারো লাখ দর্শক আসবেন বলে আশা করছে হাওড়ার লক্ষ্মীগ্রাম' খালনা।