দ্য ওয়াল ব্যুরো: শিশু চোর সন্দেহে এ বার গণপিটুনি খোদ কলকাতায়। শুক্রবার রাতে ফুলবাগান থানার কাঁকুড়গাছির গোখানায় এক যুবককে বেধড়ক মারধর করে এলাকাবাসী।
পুলিশ জানিয়েছে, স্থানীয় একটি ক্লাবঘরের সামনে লাইটপোস্টে বেঁধে ওই যুবককে মারধর করতে শুরু করে উন্মত্ত জনতা। খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে আসে পুলিশ। আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে এনআরএস হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে ওই যুবককে। ঘটনাস্থলে পুলিশ আসার পরেই শুরু হয় জনতা-পুলিশ খণ্ডযুদ্ধ। এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই ১৭জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ফুলবাগান থানার পুলিশ। স্থানীয়দের দাবি, শুক্রবার রাতে এলাকায় অচেনা একজনকে ঘুরতে দেখেই সন্দেহ হয় স্থানীয়দের। এরপরেই শিশুচোর সন্দেহে ওই যুবককে ঘিরে ধরে জনা কুড়ি লোক। তারপরেই শুরু হয় গণধোলাই।
প্রশাসনের তরফে বারবার গণপিটুনির ব্যাপারে সতর্ক করা হচ্ছে জনগণকে। খোদ মুখ্যমন্ত্রীও জনতাকে অনুরোধ করেছেন যে কেউ যেন গুজবে কান না দেয়। রাজ্য পুলিশের তরফেও বিভিন্ন সতর্কতামূল্ক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। কিন্তু তা সত্ত্বেও শহর, শহরতলি এবং বিভিন্ন জেলায় ক্রমশই বাড়ছে শিশু চোর সন্দেহে গণপিটুনির ঘটনা।
দু'দিন আগেই ছেলেধরা গুজবে উত্তাল হয়ে ওঠে হাওড়ার টিকিয়াপাড়া। বুধবার 'ছেলেধরা' সন্দেহে এক মহিলাকে আটক করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। সেই খবর ছড়িয়ে পড়তেই অন্যান্য এলাকা থেকে মানুষজন ছুটে যান সেখানে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় পুলিশও। উত্তেজিত জনতার হাত থেকে মহিলাকে উদ্ধার করতে পৌঁছয় পুলিশ। আর তখনই পুলিশের সঙ্গে বচসা বেঁধে যায় স্থানীয় বাসিন্দাদের। অভিযোগ, পুলিশকে লক্ষ্য করে পাথর ছোড়ে এলাকাবাসী। ভাঙচুর করা হয় পুলিশের গাড়ি।
উত্তেজনা বাড়লে ঘটনাস্থলে যায় পাঁচটি থানার পুলিশ এবং কমব্যাট ফোর্স। প্রথমে লাঠিচার্জ করা হয় বলে অভিযোগ। পরে কাঁদানে গ্যাসের শেলও ফাটাতে বাধ্য হয় পুলিশ। গুজব ও অশান্তি ছড়ানোর অভিযোগে বেশ কয়েক জনকে আটকও করা হয়। পরিস্থিতি বাগে আনতে রীতিমতো হিমশিম খায় পুলিশ।
প্রসঙ্গত, কয়েক দিন ধরেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে মাথাচাড়া দিচ্ছে ছেলেধরা গুজব। গুজবের জেরে চলছে গণপিটুনিও। উত্তেজনা ছড়াচ্ছে এলাকায়। দিন দুয়েক আগেই পূর্ব মেদিনীপুরের তমলুকে ছেলেধরা সন্দেহে এক যুবককে বেধড়ক মারধর করা হয়। একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটে বসিরহাটে। সেখানে গাছে বেঁধে চলে গণপ্রহার। হাওড়ার জগতবল্লভপুরেও পাঁচ জনকে সন্দেহজনক ভাবে এলাকায় ঘোরাঘুরি করতে দেখে ছেলেধরা সন্দেহে চলে গণপিটুনি।