দ্য ওয়াল ব্যুরো: এতদিন শোভন-বৈশাখীর সম্পর্ক নিয়ে বোমা ফাটাতেন রত্না চট্টোপাধ্যায়। এ বার সেই তালিকায় ঢুকে পড়লেন রত্নার বাবা তথা মহেশতলার তৃণমূল বিধায়ক দুলাল দাস। জামাই এবং জামাইয়ের শুভানুধ্যায়ীর বিরুদ্ধে কামান দাগলেন মহেশতলায় বসে। আর গোলপার্কের বহুতলে বসে দুলালের বিরুদ্ধে পালটা গোলা ছুড়লেন শোভন এবং বৈশাখী।
কী কী অভিযোগ দুলালবাবুর?
দুলাল দাস প্রশ্ন তুললেন, ওই মহিলা (পড়ুন বৈশাখীর) রাত-দিন আমার জামাইয়ের ওখানে যান কেন? কী মধু আছে?
শোভনকে পাশে বসিয়ে, নীল জর্জেটের শাড়িতে সজ্জিত বৈশাখীর উত্তর, “জনপ্রতিনিধি হয়ে, একজন মহিলা সম্পর্কে এই ধরনের মন্তব্য করেন কী করে? কোন মুখ নিয়ে মহিলাদের থেকে ভোট চান!”
মহেশতলা পুরসভার চেয়ারম্যান বলেন, শোভন এখন যে ফ্ল্যাটে থাকে, সেটা আমার ছেলের। উনি (বৈশাখী) কেন ওই বাড়িতে যাবেন?
নিঃসঙ্কোচে বৈশাখীর ঘোষণা, “শ্মশান থেকে রাজদ্বার, শোভন চট্টোপাধ্যায় যেখানে যাবেন, আমি সেখানেই যাব।”
এমনিতে জনসমক্ষে বৈশাখীকে বেশ পরিপাটি করে সেজেগুজেই দেখা যায়। সে ইডি অফিস হোক বা শোভনের ডিভোর্সের মামলায় আলিপুর আদালত। ভারি গয়নাও পরেন আল আমিন মিলি কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপিকা। তাঁর গয়না নিয়েও প্রশ্ন তুলতে ছাড়লেন না শোভনের শ্বশুর। দুলালবাবুর প্রশ্ন, উনি তো শিক্ষকতা করেন। এত গয়না পেলেন কী করে?
গায়ের গয়না নিয়ে দুলালের প্রশ্নের জবাবে বৈশাখীদেবীর উত্তর, “উনি কী ভাবেন? শিক্ষক মানেই হতদরিদ্র? এগুলো আমার মায়ের গয়না না শ্বশুর বাড়ির গয়না উনি জানেন? আমি আমার বরের থেকেই কখনও কিছু নিই না, অন্যের বরের (শোভন) থেকে নেওয়া তো দূরের কথা।” সেই সঙ্গে বৈশাখীর তোপ, “উনি তো লরির খালাসি ছিলেন!”
লরির খালাসি শুনে দুলালবাবুর বক্তব্য, “হ্যাঁ একটা সময় খালাসির কাজ করেছি। ওপার বাংলা থেকে লড়াই করেই তো আমাদের দাঁড়াতে হয়েছে। আমরা তো বৈশাখীর মতো পরের ধনে পোদ্দারি করিনি।”
বৈশাখীর বিরুদ্ধে শ্বশুরের মন্তব্য নিয়ে বেজায় চটেছেন সদ্যপ্রাক্তন মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায়ও। তাঁর একটাই কথা, “দুনিয়া ওলটপালট হয়ে গেলেও আমি বৈশাখীকে ছাড়তে পারব না।”
কিন্তু তাঁর বাবা যে প্রশ্ন তুলেছেন তা নিয়ে কী বলছেন রত্না?
দুলালবাবুর মেয়ে রত্না বলেন, “শোভন চট্টোপাধ্যায় নিজের ছেলে-মেয়ের পাশে না থাকতে পারেন। তাই বলে তো আমার বাবা ওঁর মতো অমানুষ নন। উনি মেয়ের পাশেই দাঁড়িয়েছেন। এবং যা বলেছেন ঠিক বলেছেন। শোভনবাবুর সর্বনাশের মূলে ওই মহিলাই।”
শোভন চট্টোপাধ্যায়ের শাশুড়ি প্রয়াত হওয়ার পর উপনির্বাচন এসে পড়ে মহেশতলায়। তৃণমূল প্রার্থী করে কস্তুরীদেবীর স্বামী দুলালবাবুকেই। সেই ভোটের সময়ও জামাই শোভনের বিরুদ্ধে তোপ দেগেছিলেন শ্বশুর দুলাল। এ বার জামাইয়ের বান্ধবীর বিরুদ্ধে।
আরও পড়ুন
https://www.four.suk.1wp.in/22-12-2018-west-bengal-news-police-investigate-on-khardah-murder-case/
https://www.four.suk.1wp.in/news-international-lion-looks-pleased-and-had-a-broad-grin-across-his-face-as-he-was-snapped-mating-with-a-lioness-2018/