দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রসেনজিৎ ঋতুপর্ণার সেই সিনেমাটা মনে পড়ে? ‘শ্বশুরবাড়ি জিন্দাবাদ’! বক্স অফিস কাঁপিয়ে দিয়েছিল।
কিন্তু শনিবার মহেশতলার মাটিতে যা হল তা দেখে কোনও পরিচালক ওই ছবির রিভার্স সিকুয়েল বানাতেই পারেন—‘শ্বশুর বাড়ি মুর্দাবাদ।’
শ্বশুর বাড়ির পাড়ায় জামাই আর তাঁর বান্ধবীর রোড শো! রাজনৈতিক কর্মসূচি হলেও তা আর রাজনৈতিক রইল না। উঠে এল সাংসারিক ঝগড়া। মহেশতলার মাটি থেকে শ্বশুর তথা বিধায়ক দুলাল দাস আর স্ত্রী রত্না চট্টোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানালেন কলকাতার প্রাক্তন মেয়র তথা বিজেপি নেতা শোভন চট্টোপাধ্যায়। পাল্টা শোভনের বিরুদ্ধে চাঁচাছোলা ত্যোপ দাগলেন স্ত্রী রত্না চট্টোপাধ্যায়।
এদিন মহেশতলায় রোড শো ছিল বিজেপির। সেই রোড শোয়ের পর শোভনবাবু বলেন, ‘দুলাল দাসকে মানুষ চিনেছে কোথা থেকে৷ উনি এবং ওনার মেয়ে হলেন সবচেয়ে বড় মীরজাফর৷ আমার পিঠটা যদি দেখেন দগদগে ঘা৷ সমস্ত গোডাউন দখল করে রেখেছেন৷ এক পয়সা আমাকে দেন না৷ অত ক্ষমতা থাকলে মেয়েকে নিয়ে এসে নিজের বাড়িতে এনে রাখুন না৷ আমি ডিভোর্স দিয়েছি। এত অভিযোগ থাকলে কোর্টে গিয়ে বাধা দিচ্ছেন কেন? কোন ধান্দা রয়েছে? ধান্দা করা বন্ধ করে দেব৷'
এদিন শোভন-বৈশাখীর রোড শো ঘিরে টানটান উত্তেজনা ছিল মহেশতলায়। যে পথ দিয়ে শোভন বৈশাখীর হুড খোলা এগিয়ে যায় তার ধারেই জমায়েত ছিল তৃণমূলের। শাসকদলের মহিলা-কর্মীরা ঝাঁটা, জুতো নিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন। যদিও কড়া পুলিশি প্রহরায় সংঘাত বাঁধেনি।
সেই প্রসঙ্গ তুলেই এদিন রত্না বলেন, “আজকে তো মহেশতলার লোক ওই দুটোকে (পড়ুন শোভন-বৈশাখী) বুঝিয়ে দিয়েছে। ওদের ভাগ্য ভাল মহেশতলা থেকে মার খেয়ে ফেরেনি! আবার বড় বড় কথা। দুটোর মুখে মুখে পচা ডিম গুঁজে দিতে হয়।’
এখানেই থামেননি রত্নাদেবী। গোডাউন নিয়ে যে অভিযোগ শোভনবাবু তুলেছিলেন তার জবাব দিতে গিয়ে রত্না বলেন, “শোভনের জন্মের আগে দুলাল দাস গোডাউন তৈরি করেছিল। আমি যখন ওকে বিয়ে করেছিলাম তখন ও সাধারণ কাউন্সিলর। ৫০০ টাকা মাইনে পেত। তারপর এত লাক্সারি চাল হল কোথা থেকে? সারদার টাকায় না নারদের টাকায়?”
এমনিতে শোভনবাবু ব্র্যান্ডের ব্যাপারে ভীষণ শৌখিন। যখন মন্ত্রী বা মেয়র ছিলেন তখন জামা, প্যান্ট, জুতো, ঘড়ি এমনকি রুমালটাও ব্যবহার করতেন বিদেশি ব্র্যান্ডের। লম্বা সিগারেট ছাড়া খেতেনই না। এদিন সেসবকেই নিশানা করতে চেয়েছেন রত্না।
দুলালবাবুর স্ত্রী কস্তুরী দাস ছিলেন মহেশতলার বিধায়ক। দুলালবাবু দীর্ঘদিন মহেশতলা পুরসভার চেয়ারম্যান। কস্তুরীদেবীর মৃত্যুর পর উপনির্বাচনে দুলালবাবুকে প্রার্থী করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তখন তৃণমূল-শোভন দূরত্ব শুরু হয়ে গিয়েছে। শ্বশুরের হয়ে প্রচারেও দেখা যায়নি তাঁকে। এদিন রত্না বলেন, “ওর জন্যই আমার মায়ের মৃত্যু হয়েছে।”
আর শোভন-রত্নার বিবাদ অনেক দিন আগেই রাস্তায় নেমে এসেছে। রত্নার অভিযোগ, বান্ধবী নিয়ে শোভনবাবু এতটাই মশগুল যে নিজের সন্তানদেরও দূরে সরিয়ে রেখেছেন। ২০১৮ সালের জুন মাসে তো শোভনবাবুর গোল পার্কের ফ্ল্যাটের দুয়ারে মেয়েকে নিয়ে ধর্নায় বসে পড়েছিলেন রত্না। তারপরেও একাধিকবার তাঁদের বিবাদ সামনে এসেছে। শনিবার তা নতুন মাত্রা পেল।