দ্য ওয়াল ব্যুরো: মরদেহ রাখার জন্য ইতিমধ্যেই পাঁচটি ডিপ ফ্রিজ রয়েছে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। কিন্তু তাতেও কুলোচ্ছে না। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের আবেদন পাওয়ার পরই পদক্ষেপ করল স্বাস্থ্য ভবন।
জানা গিয়েছে, আরও ছ'টি ডিপ ফ্রিজ বসানো হচ্ছে অ্যানাটমি বিভাগে। আজ, সোমবার বা আগামীকাল মঙ্গলবার থেকেই এই ফ্রিজগুলিতে দেহ রাখা যাবে। ফলে মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মোট ডিপ ফ্রিজের সংখ্যা দাঁড়াবে ১১টি। তবে এর বেশি দেহ জমলে ফের সমস্যা দেখা দিতে পারে মেডিক্যালে। যদিও কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সুপার জানিয়েছেন, "এই মুহূর্তে দেহ রাখার ক্ষেত্রে কোনও সমস্যা নেই।"
গত শুক্রবার দুপুর থেকে রবিবার দুপুর পর্যন্ত এই ৪৮ ঘণ্টায় কলকাতা মেডিক্যাল কলেজে মৃত্যু হয়েছে ১৬ জনের। যাঁদের মধ্যে প্রায় অর্ধেক করোনা আক্রান্ত। বাকিদের মধ্যে কোভিড উপসর্গ ছিল। ফলে দেহ রাখার ক্ষেত্রে সমস্যা তৈরি হয়।
মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে দেহ তোলার লোকের অভাব প্রকট হয়েছিল সপ্তাহ দুয়েক আগে। দমদম চিড়িয়া মোড়ের বাসিন্দা এক যুবকের মৃত্যুর পর তাঁর ভাইয়ের হাতে ট্রলি ধরিয়ে বলা হয়, দেহ মর্গে গিয়ে রেখে আসতে। মৃতের ভাইয়ের ভিডিও বার্তা রীতিমতো ভাইরাল হয়েছিল সোশ্যাল মিডিয়ায়।
রবিবার দুপুরে এক যুবক তাঁর অসুস্থ বাবাকে নিয়ে হাসপাতালে আসেন। ওই বৃদ্ধের শ্বাসকষ্ট হচ্ছিল বলে জানা যায়। এরপর একটি ট্রলিতে শুইয়ে বাবাকে রেখে দিয়ে উধাও হয়ে যান ওই ছেলে। চিকিৎসকরা এসে দেখেন বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে। ছেলে বা পরিবারের খোঁজ না মেলায় দেহ সরিয়ে রাখা হয়।
মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালকে কোভিড হাসপাতাল হিসেবে ঘোষণা করেছে রাজ্য সরকার। সুপার স্পেশালিটি ব্লক ও গ্রিন বিল্ডিংয়ের সমস্ত ফ্লোর মিলিয়ে প্রায় হাজার বেডের বন্দোবস্ত করা হয়েছে। গ্রিন বিল্ডিংয়ে উপসর্গ ধরা পড়া রোগীদের চিকিৎসা চলছে আর সুপার স্পেশালিটি ব্লকে চলছে করোনা আক্রান্তদের চিকিৎসা। কিন্তু দুই ব্লকেই পরপর এত রোগীর মৃত্যু হচ্ছে তাতে আতঙ্কিত হাসপাতালের সাধারণ কর্মী থেকে সাফাইকর্মীরাও। ঠিকাদারের অধীনে কর্মরত কর্মীরা কোভিড ওয়ার্ডে ঢুকতেই চাইছেন না বলে খবর। বিকল্প হিসেবে নতুন ঠিকাকর্মী নিয়োগের কাজ শুরু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। সব মিলিয়ে মেডিক্যাল কলেজের পরিকাঠামো নিয়ে গুচ্ছ প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
এত মৃত্যু প্রসঙ্গে হাসপাতলের এক আধিকারিক বলেন, "বেসরকারি হাসপাতাল ও অন্যান্য হাসপাতাল থেকে যখন রোগীদের মেডিক্যাল কলেজে পাঠানো হচ্ছে তখনই তাঁরা চরম সংকটাপন্ন। চিকিৎসা শুরু হওয়ার আগে বা কিছু পরেই তাঁদের মৃত্যু হচ্ছে।"