দ্য ওয়াল ব্যুরো: লেনিন সরণিতে অমিত শাহের রোড শোয়ের জন্য লাগানো বিজেপি-র হোর্ডিং খুলে দেওয়াকে কেন্দ্র করে বেঁধে গেল খণ্ডযুদ্ধ। বিজেপি কর্মী বনাম পুলিশের বচসা থেকে গাড়ি ভাঙচুর। দিনের ব্যস্ত সময়ে অবরুদ্ধ হয়ে গেল শহরের প্রাণকেন্দ্র।
গোটা লেনিন সরণি জুড়ে অমিত শাহের ছবিতে ছয়লাপ করে দিয়েছিল বিজেপি। কিন্তু কলকাতা পুলিশ এবং কর্পোরেশনের কর্মীরা গিয়ে সরকারি জায়গায় লাগানো সেই হোর্ডিং খুলতে থাকে। আর তাই নিয়েই শুরু হয় বচসা। বিজেপি-র অভিযোগ, তৃণমূলের নির্দেশে এই কাজ করেছে পুলিশ। উত্তর কলকাতার বিজেপি প্রার্থী রাহুল সিনহা বলেন, “লালবাজারের বাবুরা কালীঘাটের চাকরে পরিণত হয়েছেন। তাই এ সব করছেন।” যদিও পুলিশের বক্তব্য, নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ মেনেই এই কাজ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার অমিত শাহর রোড শো ঘিরে জটিলতা তৈরি হয় সকাল থেকে। শহিদ মিনার থেকে রোড শো শুরু করার অনুমতি দেয়নি পুলিশ। ধর্মতলা থেকে রোড শো শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হয়। ফলে দুপুরের মধ্যেই ধর্মতলার দখল নিয়ে নেন বিজেপি কর্মীরা। রোড শো শেষ হওয়ার স্থান নিয়েও রয়েছে বিধিনিষেধ। উত্তর কলকাতার সিমলা স্ট্রিট পর্যন্ত রোড শো করার কর্মসূচি ছিল বিজেপির। কিন্তু কলকাতা পুলিশ তাতে অনুমতি দেয়নি। রোড শো শেষ করতে হবে বিবেকানন্দ ক্রসিংয়েই।
এই মাপের নেতাদের প্রচারের ক্ষেত্রে ২৪ ঘণ্টা আগে পুলিশের অনুমতি নিতে হয়। রাজ্য বিজেপি নেতৃত্ব সেনাবাহিনীর কাছে অনুমতি চান। সেনা অনুমতি দেওয়ার পর তাঁরা আর পুলিশের কাছে অনুমতি চাননি। যতক্ষণে তাঁরা পুলিশের কাছে রোড শো-র জন্য অনুমতি চেয়েছেন, ততক্ষণে ২৪ ঘণ্টা সময়সীমা পেরিয়ে গিয়েছে। তাই নিয়ম অনুযায়ী অনুমতি দিতে পারেনি পুলিশ। এ ক্ষেত্রে বিজেপি নেতৃত্বের গাফিলতিরই অভিযোগ তুলছে একপক্ষ। বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতির রোড শো হওয়া সত্ত্বেও কেন তৎপরতা দেখালেন না রাজ্য বিজেপি নেতৃত্ব, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে দলের অন্দরে। যদিও বিজেপি নেতাদের বক্তব্য, শহিদ মিনার ভাবা হয়েছিল এই কারণে যাতে জমায়েতটা মাঠে হয়। সেক্ষেত্রে রাস্তায় ভিড় হত না। কিন্তু এ ক্ষেত্রে তো পুলিশ অনুমতি না দিয়ে যান চলাচলে ব্যাঘাত ঘটাল।