দ্য ওয়াল ব্যুরো: সরকারি জায়গায় চোখ ধাঁধানো তিন তলা বাড়ি করে দিব্যি দিন কাটছিল। কিন্তু তার মধ্যেই সিআইডি এসে তুলে নিয়ে গেল ব্যবসায়ী পরিচয়ে থাকা সল্টলেকের ডিবি ব্লকের বাসিন্দা রাজীব রঞ্জন কুমারকে। বুধবার সকালে সিআইডি এবং বিধাননগর উত্তর থানার পুলিশ গিয়ে বাড়ি থেকে গ্রেফতার করে রাজীবকে। বিধাননগর মহকুমা আদালতে তোলা হলে বিচারক সাত দিনের সিআইডি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন।
ঘটনা কী?
ডিবি ব্লকের ১২২ নম্বর প্লটের একটি সাড়ে চার কাঠা জমি এক বৃদ্ধা মহিলার নামে ছিল। তিনি মেয়ের কাছে মুম্বই চলে যান কয়েক বছর আগে। স্বামী মারা যাওয়ার পর কলকাতায় তাঁর তিন কূলে কেউ নেই। তাই ওই জমি রেখেই বা আর কী করবেন এই ভেবে জমিটি নগরোন্নয়ন দফতরকে হস্তান্তর করে যান।
কিন্তু এরপরই ঘটনা অন্যদিকে মোড় নেয়। বৃদ্ধার মেয়ের অভিযোগ, কয়েক বছর আগে তাঁর মায়ের সঙ্গে দেখা করতে মুম্বইয়ে যান দুই ব্যক্তি। পরিচয় দেন তাঁরা কেন্দ্রীয় তদন্ত এজেন্সি এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের অফিসার। তারপর ভুয়ো কাগজপত্র দেখিয়ে বলেন, নগরোন্নয়ন দফতরের থেকে তাঁরা জমিটি কিনে নিচ্ছেন, কিন্তু ল্যান্ড লর্ড হিসেবে বৃদ্ধার সই লাগবে। তার জন্য ১৫ লক্ষ টাকার চেক তাঁরা সঙ্গে করেই নিয়ে এসেছেন বলে জানান। ওই বৃদ্ধা সইও করে দেন। ১৫ লক্ষ টাকার চেক দিয়ে ওই দুজন কাগজপত্র বগলদাবা করে চলে আসেন। তাঁর মেয়ে সংবাদমাধ্যমে বলেছেন, “আমি ওঁদের থেকে পরিচয়পত্র দেখতে চাই। ওঁরা আমাকে ইডির আই কার্ড দেখান। আমি সেই কার্ডের ছবি তুলে রেখেছিলাম।”
এর মধ্যে ওই জমিতে বাড়ি করে থাকতে শুরু করে দিয়েছিলেন রাজীববাবু। কয়েক মাস আগে বৃদ্ধার মেয়ে খবর পান, তাঁদের সল্টলেকের জমিতে তিন তলা বাড়ি হয়েছে এবং সেখানে লোক থাকে। কিন্তু সেটা কি সরকারি বাড়ি? খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, না। সরকারি বাড়ি নয়। এক্কেবারে গেরস্থ বাড়ি। এরপরই কলকাতার ইউডি দফতরের সঙ্গে যোগাযোগ করেন বৃদ্ধার মেয়ে। দু’জনের আই কার্ডের ছবি পাঠান। সিজিও কমপ্লেক্স থেকে বৃদ্ধার মেয়েকে জানিয়ে দেওয়া হয়, এই দুজন তাদের কর্মী নন। এরপরে বৃদ্ধার মেয়ে বিধাননগর উত্তর থানায় ইমেল মারফত অভিযোগ জানান। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নামে বিধাননগর উত্তর থানার পুলিশ। পাশাপাশি নগরোন্নয়ন দফতর সিআইডিকে জানায়। আটঘাট বেঁধেই অপারেশনে আসেন গোয়েন্দারা।
সূত্রের খবর, ধৃত রাজীব বাংলার বিভিন্ন জায়গায় জমি কেলেঙ্কারিতে যুক্ত। গোয়েন্দাদের প্রাথমিক ধারণা, জমির কাগজপত্র জাল করেই তিনি বাড়ি করেছিলেন। এখন তাঁকে হেফাজতে নিয়ে সিআইডি দেখতে চাইছে, তিনি একাই নাকি এর পিছনে আরও বড় কোনও মাথা রয়েছে।