দ্য ওয়াল ব্যুরো: নাগেরবাজার বিস্ফোরণে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ২।
গান্ধীজয়ন্তীর দিন সাতসকালেই তীব্র বিস্ফোরণে কেঁপে উঠেছিল দমদমের নাগেরবাজার। মৃত্যু হয়েছিল আট বছরের বিভাস ঘোষের। মারাত্মক ভাবে জখম হয়ে আরজিকর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন ফল বিক্রেতা অজিত হালদার। টানা বারো দিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়েছেন তিনি। তবে শেষ রক্ষা হয়নি। শনিবার রাতে মৃত্যু হয়েছে তাঁর।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, গত ২ অক্টোবর বিস্ফোরণের তীব্রতা এতটাই ছিল যে ক্ষতিগ্রস্ত হয় আশেপাশের বেশ অনেকগুলি বাড়ি। ভেঙে যায় জালনার কাঁচ। যে বহুতলে সে দিন বিস্ফোরণ হয়েছিল তার নীচেই ফলের দোকান ছিল অজিত হালদারের। এ ছাড়াও ওই বহুতলের এক তলাতেই ছিল দক্ষিণ দমদম পুরসভার চেয়ারম্যান পাঁচু রায়ের অফিস। অল্পের জন্য সেদিন রুক্ষা পান তিনি। পরে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে এসে তিনি জানিয়েছিলেন, অজ্ঞাতপরিচয় দুষ্কৃতীরা তাঁকেই টার্গেট করেছিল। তবে এ কথা বলার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তিনবার নিজের বয়ান বদল করেছিলেন পাচু রায়।
ইতিমধ্যেই নাগেরবাজার বিস্ফোরণ কাণ্ডের তদন্তভার নিয়েছে সিআইডি। হাসপাতালে থাকাকালীন অজিত হালদারের থেকে তদন্তকারী অফিসারেরা জানতে পারেন, ঘটনার দিন এক ব্যক্তি তাঁর দোকানের সামনে একটি ব্যাগ রেখে পাশের দোকানে আটা কিনতে গিয়েছিলেন। সেই ব্যাগ থেকেই বিস্ফোরণ ঘটেছে বলে জানিয়েছেন সিআইডি অফিসারেরা। সুস্থ হলে অজিতকে জিজ্ঞাসাবাদ করে আর কিছু তথ্য পাওয়ার আশায় ছিলেন তদন্তকারী অফিসারেরা।
এর মধ্যেই মঞ্চ সাজিয়ে, আলো জ্বালিয়ে মৃত এবং আহতদের পরিবারকে 'লোক দেখানো' ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কর্মসূচি সেরেছেন পাচুবাবুরা। এখনও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মৃত বিভাসের মা। তিনি জানেনও না তাঁর সন্তান আর নেই। এর মধ্যেই ফের আর একজনের মৃত্যু হলো নাগেরবাজার বিস্ফোরণ কাণ্ডে।