দ্য ওয়াল ব্যুরো: রমজান মাসে ভোট হওয়া নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস প্রথম দিনই আপত্তি জানিয়েছিল। কিন্তু কমিশন সে সবে কর্ণপাত করেনি। রমজানের মাসের সেই প্রসঙ্গ টেনে এনে ক’দিন আগেই যাদবপুরের তৃণমূল প্রার্থী তথা অভিনেত্রী একটি অনুষ্ঠানে ঘোষণা করেছিলেন, “আমিও ভোটের দিন রোজা রাখব। সারাদিন উপোস করে বিকেলে আপনাদের সঙ্গেই রোজা ভাঙব।” কিন্তু সিপিএম প্রার্থী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, এ সব ‘ভণ্ডামি’-তে তিনি নেই। তাঁর কথায়, “আমি কোনও দিন রোজা রাখি না। হঠাৎ রোজা রাখতে যাব কেন? আমি ওই সব ভণ্ডামির মধ্যে নেই।”
বিকাশবাবুকে এ ব্যাপারে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি আরও বলেন, “মানুষের সঙ্গে আমার সম্পর্ক সারা বছর। তাঁদের সুখ দুঃখের লড়াইয়ে থাকি। আমি পুজো করি না, রোজা করি না, হঠাৎ এগুলো কেন করব! মানুষ তো মূর্খ নন। তাঁরা সব বোঝেন, কোনটা আসল, কোনটা নকল।” মিমির উদ্দেশে পাল্টা প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে কলকাতার প্রাক্তন মেয়র বলেন, “উনি কি জানেন কেন রোজা রাখা হয়? রোজার গুরুত্ব, অর্থ এ সব কিছু কি বোঝেন?”
এমনিতে ভোট এলে জনসংযোগ সারতে নেতারা কত কীই না করেন। কেউ চলে যান মন্দিরে, কেউ ঢুকে পড়েন কীর্তনের আসরে, কেউ আবার মাজারে চাদর চাপিয়ে জনসংযোগ সারেন। কয়েক দিন আগেই ব্যারাকপুরের তৃণমূল প্রার্থী দীনেশ ত্রিবেদী একটি কীর্তনের আসরে চলে গিয়েছিলেন। সেখানে খোল বাজিয়ে, কীর্তনের সুরে প্রাক্তন রেলমন্ত্রীর সে কী নাচ! অনেকের মতে, গত পাঁচ বছরে দীনেশবাবুকে কীর্তন কেন, এলাকায় কোনও ক্রিকেট ম্যাচেও দেখতে পাওয়া যায়নি। দমদমের প্রার্থী সৌগত রায়কেও দেখা যায় সাঁতার কাটছেন সুইমিং পুলে। সেখানেও অনেকে হেসে বলছেন, তাঁকেও তো গত পাঁচ বছরে দমদমে এ ভাবে সাঁতার কাটতে দেখা যায়নি। মঞ্চে একবার রবিনা টন্ডনের সঙ্গে নাচতে অবশ্য দেখা গিয়েছিল। বিকাশবাবুর দলের নেতারা সবাই যে তাঁর মতই, তাও আবার নয় কিন্তু। এর মধ্যেই রায়গঞ্জের সিপিএম প্রার্থী মহম্মদ সেলিমের কপালে তিলক কাটা ছবি ভাইরাল হয়েছিল সোশ্যাল মিডিয়ায়। কিন্তু বিকাশবাবু বুঝিয়ে দিলেন সে পথে তিনি হাঁটবেন না। রাজনৈতিক লড়াই লড়বেন রাজনৈতিক ভাবেই।
এর আগে গো মাংস নিয়ে হিন্দুত্ববাদীদের ফতোয়াকে চ্যালেঞ্জ করে ধর্মতলার মোড়ে দাঁড়িয়ে ‘বিফ ফেস্টিভ্যাল’ করেছিলেন বিকাশ। সেই সময় বিস্তর বিতর্কও হয়েছিল। কিন্তু এ বার লোকসভা ভোটে যাদবপুরের সিপিএম প্রার্থী কোনও বিতর্ক তৈরি হতে দিতে চাইছেন না। নিবিড় প্রচারকেই অস্ত্র করেছেন তিনি। দোলের দিনও এক ফোঁটা আবির লাগাননি। সাংবাদিকরা জিজ্ঞেস করেছিলেন বসন্ত উৎসবে যোগ দেবেন না? উত্তরে তিনি জানিয়েছিলেন, “ছেলে মেয়েগুলো রাস্তায় পড়ে আছে, আর আমি বসন্ত উৎসব করি কী করে!” ওই সময় এসএসসি চাকরিপ্রার্থীরা প্রেস ক্লাবের সামনে অনশন করছিলেন।
রাজনৈতিক মহলের অনেকের মতে, মিমির এই এই রোজা রাখার কথা আসলে ভোটের সময় সংখ্যালঘুদের খুশি করার চেষ্টা। বিজেপি নেতাদের কথায়, “এর মধ্যে তো গাজন রয়েছে, নীল ষষ্ঠী রয়েছে, কই তা নিয়ে তো মিমি কিছু বললেন না! নীলের দিন মায়েরা উপোস করেন। গাজনের সন্ন্যাসীদেরও তো কম কষ্ট হয় না! তৃণমূলের তোয়াজের রাজনীতি বাংলার মানুষ ধরে ফেলেছে।”
তবে মিমির রোজা রাখা নিয়ে বিকাশের কটাক্ষকে পাল্টা বিঁধেছে বাংলার শাসক দলও। তৃণমূলের এক শীর্ষ নেতা বলেন, “মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ নেই বিকাশবাবুদের। তাই এ সব কথা বলছেন। ২৩ মে বোঝা যাবে কোনটা মানুষের মনের কথা আর কোনটা ভণ্ডামি।”