শিয়ালদহ-ধর্মতলায় ধুন্ধুমার, হিন্দু জাগরণ মঞ্চের মিছিল ঘিরে অশান্তি
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মেটিয়াবুরুজের আরএসএস কর্মী বীরবাহাদুর সিং-এর গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনার প্রতিবাদে বুধবার কলকাতায় মিছিলের ডাক দিয়েছিল হিন্দু জাগরণ মঞ্চ। আর সেই মিছিল ঘিরেই সংগঠনের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে দফায় দফায় খণ্ডযুদ্ধ হল পুলিশের। কখনও তা শিয়াল
শেষ আপডেট: 4 December 2019 11:11
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মেটিয়াবুরুজের আরএসএস কর্মী বীরবাহাদুর সিং-এর গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনার প্রতিবাদে বুধবার কলকাতায় মিছিলের ডাক দিয়েছিল হিন্দু জাগরণ মঞ্চ। আর সেই মিছিল ঘিরেই সংগঠনের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে দফায় দফায় খণ্ডযুদ্ধ হল পুলিশের। কখনও তা শিয়ালদহ, মৌলালিতে, কখনও আবার ধর্মতলার মোড়ে।
এদিন সকাল ১০টা থেকে শিয়ালদহ স্টেশনের সামনে জমায়েত শুরু করে হিন্দু জাগরণ মঞ্চ। বেলা ১২টার সময়ে মিছিল শুরু হয় শিয়ালদহ বিগবাজারের সামনে থেকে। সেই মিছিল নীলরতন সরকার মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের গেটে যেতে না যেতেই আটকে দেয় পুলিশ। প্রশাসনের তরফে বলা হয়, এই মিছিলের অনুমতি নেই। সুতরাং তারা মিছিল এগোতে দেবে না। এরপরই শুরু হয় বচসা। উত্তেজিত জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিও চালায় পুলিশ। ছড়িয়ে ছিটিয়ে যায় জমায়েত। এনআরএস আহাসপাতালের সামনে থেকে কয়েকজন হিন্দুত্ববাদীকে আটকও করে পুলিশ।

দু’দিন আগেই নবান্ন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে রাজ্যের সমস্ত জেলার পুলিশ আধিকারিকদের মুখ্যমন্ত্রী তথা বাংলার পুলিশমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নির্দেশ দিয়েছিলেন, কোনও চরমপন্থী সংগঠনের কর্মসূচিতে অনুমতি দেওয়া যাবে না। আর এদিনের কর্মসূচির আগাম কোনও অনুমতিই ছিল না বলে জানিয়েছে পুলিশ। তাই সকালে গেরুয়া শিবিরের জমায়েত শুরু হতে দেখেই তৎপরতা শুরু হয়ে গিয়েছিল লালবাজারে।
এনআরএস হাসপাতালের সামনে লাঠি চার্জের কিছুক্ষণ পর ওই গেটেই আবার জমায়েত করে এই হিন্দুত্ববাদী সংগঠন। শুরু হয় মিছিল। এসএন ব্যানার্জি রোডে ঢোকার মুখে ফের মিছিল আটকায় পুলিশ। এর ঘণ্টা ঘানেক পর দেখা যায় ধর্মতলার মোড়ে কয়েকশো কর্মীসমর্থকের জমায়েত করে ফেলেছে হিন্দু জাগরণ মঞ্চ। সেখানে উপস্থিত বিজেপিতে যোগ দেওয়া প্রাক্তন তৃণমূল সাংসদ অনুপম হাজরাও। সেখানেও একপ্রস্থ সংঘর্ষ হয় পুলিশের সঙ্গে। গ্রেফতার করা হয় বেশ কয়েকজন হিন্দুত্ববাদী নেতাকে।
দু’দিন আগেই মেটিয়াবুরুজে গুলিবিদ্ধ হয়েছিলেন বীরবাহাদুর। সেই ঘটনা নিয়ে বিজেপি বলতে শুরু করেছিল বাংলায় সংখ্যাগুরুরা বিপদে রয়েছে। গতকাল জখম স্বয়ংসেবককে এসএসকেএম হাসপাতালে গিয়েছিলেন দেখতে গিয়েছিলেন বিজেপি নেতা কৈলাস বিজয়বর্গীয়। বেরিয়ে এসে তিনি এই ঘটনার দায় চাপান শাসকদলের উপরে। এদিনই দেখা গেল রাস্তায় নেমে পড়ল হিন্দু জাগরণ মঞ্চ।